তোমার বিদ্যার দেবতা কে?
জগদীশচন্দ্র রায়
তুমি ছিলে অচ্ছুৎ, পতিত, নীচ্।
তোমার থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল
শিক্ষা, সম্পত্তি ও শস্ত্রের অধিকার।
তুমি ভাবছো, ‘এসব জেনে আমার কী দরকার’।
তবে শোন, তোমার একটাই কর্ম হলো নির্ধারিত;
নিঃশব্দে প্রভুর সেবা করা।
তুমি হলে পশুর থেকেও অপবিত্র।
এইভাবে তুমি শৃঙ্খলীত হয়ে, মানুষ নামের পশু হয়ে
কাটালে তোমার জীবন।
হাজার বছর ধরে।
কালের চক্র ঘুরে চলে। দিকে দিকে জন্ম নিল-
বুদ্ধ, মার্ক্স, মার্টিন; হরি-গুরু, যোগেন,ভীম।
জ্যোতি,সাবিত্রি, নেলসন; আরো কতো নাম।
তোমাকে শৃঙ্খল মুক্ত করতে শুরু হোল তাদের সংগ্রাম।
ক্রান্তি – প্রতিক্রান্তির ডামাডোলে
কারাগারের ছিদ্র দিয়ে দেখতে পেলে তুমি আলোকে।
যে আলো তোমার
শৃঙ্খল মুক্ত করতে চায়।
তোমার অজ্ঞানতাকে দূর করতে চায়।
তোমাকে সমস্ত অধিকার ফিরিয়ে দিতে চায়।
প্রবল সংঘর্ষের ফলে তুমি শরীরের বন্দি দশা থেকে হলে মুক্ত।
কিন্তু হায়!
তোমার প্রভুরাতো তোমাকে গোলামই রাখতে চায়।
তাই তুমি বন্দি হলে বৈদিক পূজা-পাঠ, যাগ-যজ্ঞ,
দান-দক্ষিণায়।
তোমাকে যারা মুক্ত করে আলো দেখালো
তাদের তুমি ভুলে গিয়ে আকড়ে ধরলে অলীককে।
আপন করলে শত্রুকে। আর পর করলে নিজেকে।
তুমিতো জানোয়ার নও। তুমিতো মানুষ!
কবে জাগবে তোমার হুষ?
যে পশুও বোঝে কোনটা মাটি আর কোনটা খাটি।
তাহলে তুমি কেন বুঝতে চাওনা
মাটির পুতুল ছেড়ে মানুষ কেন চেনোনা?
তোমার হাতে তো কলম উঠেছে,
কিন্তু পেটে কালির বিদ্যা কবে হবে?
তোমার পকেটে তো টাকা এসেছে।
তবে এসবের অবদানকে কবে জানবে?
তোমার অহমিকাকে ভুলে গিয়ে মহামানবদের কবে চিনবে?
যারা অবিদ্যান হয়েও
বিদ্যার লড়াই করল তোমার জন্য
তোমার চোখে জ্বাল্লো জ্ঞানের আলো
আজ তাদের ভুলে তুমি ছুটে চলেছ
এ কোন অলীক বিদ্যাদেবীর দ্বারে??
যদি তুমি মানুষ হতে চাও
মাটির প্রতিমাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে
ভালোবাস মাটির মানুষকে।
ভালবাস তোমার জ্ঞানালোক ধারীকে।
বন্দনা করো তাদের জ্ঞানাদর্শকে।
বন্দনা করো তাদের জ্ঞানাদর্শকে।।
_______________
0 comments:
Post a Comment