Wednesday, 14 January 2026

// // Leave a Comment

বাংলা ভাগের পক্ষে ও বিপক্ষে কারা ভোট দিয়ে ছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ। (যোগেন্দ্রনাথ এই ভোটাভোটিতে অংশ গ্রহণ করেন নি)

 












বাংলাভাগের ভোটাভোটিতে যোগেন্দ্রনাথাকে অংশ গ্রহণে বিরত রাখার কারণ-

যোগেন্দ্রনাথ তখন ভারতের অন্তর্বর্তী সরকারে আইনমন্ত্রী। সুতরাং ব্যবস্থা পরিষদের এই ভোটাভোটিতে তাঁর পক্ষে যোগদান করা আইনগত দিক থেকে বাধা ছিল। এতে প্রামণ হয় ভারত তথা বাঙলা ভাগের  ব্যাপারে যোগেন্দ্রনাথের কোনও মতামত গ্রহণ করা হয়নি (তথ্য-মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ। লেখক- জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা -১৪৯)

বাংলা ভাগের পক্ষে ও বিপক্ষে কারা ভোট দিয়ে ছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ_



 









Read More

Tuesday, 13 January 2026

// // Leave a Comment

প্রিয় সম্পাদক অস্পৃশ্যতার শিকার বিবেকানন্দ লেখক- অঞ্জন সাহা

                        প্রিয় সম্পাদক- অস্পৃশ্যতার শিকার বিবেকানন্দ

              


                                             লেখক- অঞ্জন সাহা

      ১৮৯৩ সালে বিবেকানন্দ এক পত্রে আলাসিঙ্গাকে এক লিখেছেন, ‘হিন্দু ধর্ম যেমন পৈশাচিকভাবে গরিব ও পতিতদের গলায় পা দেয় জগতের আর কোনও ধর্ম এক্সপ করে না।’ এই ‘পৈশাচিক পা’ বিবেকানন্দকেও রেহাই দেয়নি। শূদ্র বলে অনেক সন্ন্যাসী মঠে আশ্রমে তাঁকে অপরাপর সন্ন্যাসীদের সঙ্গে পঙক্তি ভোজনে বসতে দেওয়া হয়নি। বিখ্যাত জজসাহেব ও প্রখ্যাত সমাজসেবী স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্ববিজয়ী বিবেকানন্দর সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করতে অস্বীকার করেন। এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর শোকসভায় সভাপতিত্ব করতে অনুরোধ করা হলে শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘দেশে যদি হিন্দু রাজা থাকত তবে শূদ্র হয়েও সন্ন্যাসী হওয়ার অপরাধে তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানো হাত’ (বিবেকানন্দ ও সমকালীন ভারতবর্ষ, শঙ্করীপ্রসাদ বসু, খ-৪, পৃঃ- ৬২)। এমনকি এটাও জ্বলন্ত সত্য যে, শ্রী রামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর মথুর বিশ্ব সেরা বিবেকানন্দকে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে ঢুকতে দেননি তার শদ্রত্বের কারণে। ‘স্বামী বিবেকানন্দ মন্দিরে ঢুকেছিলেন বলে দেবীর পুনরাভিষেকের প্রয়োজন হয়েছিল।’ (ঐ, পৃঃ- ১৫৫)। এতদসত্বেও তিনি সেই পৈশাচিক ধর্মের মহিমা কীর্তন করে গেছেন এবং জাতবাদ-এরও তিনি ছিলেন প্রবল সমর্থক। জাতবাদ-এর আর এক শিকার ড. আম্বেদকর। তাঁর পরীক্ষার উত্তর-পত্রাদি গঙ্গাজল ছিটিয়ে প্রথমে পবিত্র করা হত, তারপরই শিক্ষকরা তা মার্কিং-এর জন্য দেখতেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবু জগজীবন রাম বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ড. সম্পূর্ণানন্দের মূর্তি উন্মোচন করেন। মুচির ছেলের স্পশে মূর্তি অপবিত্র হওয়ায়, পরে গঙ্গাজলে ধুয়ে তাকে পুনরায় পবিত্র করা হয়। কিন্তু মাঝগঙ্গার অতলে ডুবিয়েও ড. আম্বেদকরদের পবিত্র করা যায়নি। তাঁরা রয়ে গেছেন অস্পৃশ্যই। আবার শূদ্রাণী কৈবর্ত রাণি রাসমণি তাঁর দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দিরের সম্পত্তি ব্রহ্মোত্তর করে না দেওয়া পর্যন্ত গদাধরের পুজোর প্রসাদ গ্রহণ না করার জেদ মুগ্ধ করেছিল সনাতনপন্থী হিন্দু সম্প্রদায়কে। তাঁরা তুরীয় আনন্দে রামকষ্ণদেবকে অবতার বলে ঘোষণা করে দিলেন। প্রকৃতপক্ষে গোঁড়া ব্রাহ্মণ রামকৃষ্ণ নিম্নবর্ণকে চিরকাল নিচ চোখে দেখে এসেছেন। ‘শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পুঁথি-র লেখক অক্ষয় সেন (শাকচুন্নী) লিখেছেন,

 ‘প্রভুদেব রামকৃষ্ণ বসিলা ভোজনে।।

 একাত্তরে সবে কিন্তু স্বতন্ত্রর স্থান।

 বর্ণ ভেদ রক্ষাকরা প্রভুর বিধান।।’ (পৃঃ-৫২২)।

 কিংবা

 ‘পবিত্র ব্রাহ্মণ বিনা বন্দন না হয়।

 অন্যে পরশিলে অন্ন ঘৃণ্য অতিশয়।।’ (পৃঃ- ৪৮৮)।

 গান্ধীজি ‘বর্ণাশ্রম’ ধর্মের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু অচ্ছুৎ প্রথাকে ঘৃণা করতেন। কিছুকাল অস্পৃশ্যতা। দুরীকরণের প্রয়াস চালিয়ে ধর্মের ঠিকাদারদের আক্রমণের শিকার হন। গোঁড়া হিন্দু সমাজের বাঘা বাঘা সমালোচকরা তাঁকে অভিহিত করেন ‘শয়তান’ বলে। গান্ধীজির প্রয়াস সফল হয়নি। তিনি বোঝেননি, বর্ণভেদ-জাতিভেদ প্রথা সমূলে উচ্ছেদ না করে এবং যে ধর্মের ঈশ্বর সমস্ত শ্রমজীবী মানুষকে ‘পাপযোনি’ এবং ‘দাস’ করে সৃষ্টি করেছেন, সেই ধর্ম এবং তার ধর্মগ্রন্থের আধুনিক ভাষ্যের মাধ্যমে ব্রহ্মণ্য ধর্মের চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণের মানুষদের শৃঙ্খল মোচন সম্ভব নয়। প্রমাণ, চুনী কোটাল ও রোহিত ভেমুলা।

     আজও প্রতিদিন এই মহান ভারতের কোথাও না কোথাও অস্পৃশ্যদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের নারীদের ধর্ষণ করা হয়। ভৌতিক উল্লাসে তাঁদের পুড়িয়ে মারা হয়। তথ্য বলছে, ২০০০ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে উচ্চবর্ণের সন্ত্রাসবাদীরা নিম্নবর্ণের ২৬০০০ মানুষকে হত্যা করেছে। মূল থেকে পচে যাওয়া সমাজব্যবস্থায় রোহিতের মৃত্যু আরও একটি সংখ্যা মাত্র। নানা মিডিয়ায় কিছুদিন ফাটাফাটি যুক্তি-তর্ক চলবে, তারপর সব শান্তিকল্যাণ হয়ে যাবে। 

     মানুষ নয়, অস্পৃশ্য হোক অমানবিক ধর্মীয় বিধান।

অঞ্জন সাহা। কলকাতা-৫১

(কোন পত্রিকায় এটা ছাপা হয়েছে, সেটা জানিনা।)


Read More
// // Leave a Comment

শূন্যের আবিষ্কার কে করেছিলেন?-ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ সিংহ

 


শূন্যের আবিষ্কার কে করেছিলেন?

আমরা সাধারণত এটা জানি যে, আর্যভট্ট শূন্যের ‘০’ আবিষ্কার করেছিলেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ভাষাতত্ত্ববিদ ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ সিংহ জানিয়েছেন-

শূন্য আবিষ্কার যিনিই করুন না কেন, কনিষ্কের সময়ে 0’ শূন্য ছিল এবং ডানে 0’ শূন্য যোগ করে ২০ লেখাও ছিল। বারাণসী থেকে প্রাপ্ত কনিষ্কের সময়ের একটি বুদ্ধ মূর্তির ছাউনিতে 0’ শূন্যও আছে, ২০ও রয়েছে। (তথ্য- ভারতীয় লিপিয়ো কী কহানীঃ গুণাকর মূলে পৃ. ৬৩/বাংলা বই- ইতিহাসের পর্যালোচনা। পৃষ্ঠা ক্রমাঙ্ক – ৬৫)

 शून्य का आविष्कार चाहे जिसने भी किया हो, कनिष्क के समय में 0 भी था और दाहिनी ओर ० जोड़कर लिखा गया 20 भी था। वाराणसी से प्राप्त कनिष्क के समय की एक बुद्ध मूर्ति के छत्र पर 0 भी है, 20 भी है।(साभार-भारतीय लिपियों की कहानी : गुणाकर मुले पृष्ठ 63/ इतिहास का मुआयना Page No.78)


Read More

Saturday, 10 January 2026

// // Leave a Comment

দেবতা আছে কি? আত্মা আছে কি? এই বিষয় নিয়ে বুদ্ধ ও এক ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথোন।

 


দেবতা আছে কি? আত্মা আছে কি? এই বিষয় নিয়ে বুদ্ধ ও এক ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথোন। (মারাঠি ভাষ্যকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে)

तथागत बुद्धांना एकदा एका मनुष्याने विचारलं देव आहे कि नाही? आत्मा नाही पुनर्जन्म नाहीस्वर्ग नाहीनर्क नाहीतुम्ही असं कसंकाय म्हणता?

    তথাগত বুদ্ধকে একজন প্রশ্ন করলেন যে, আপনি বলেন যে, দেবতা নেই, আত্মা নেই, স্বর্গ নেই, নরক নেই। আপনি এসব কথা কি করে বলেন?

 এ সব বিষয়ে তথাগত বললেন, আমি শুধু বাস্তব সত্য কী সে বিষয় সম্পর্কে মানুষদের জানানোর কাজ করি।

 তখন সেই ব্যক্তি বললেন, আমি সঠিক বুঝলাম না। আমাকে আপনি এ বিষয়ে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে বলবেন কি?

তথাগত বললেন মানুষের বাহ্যিক পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয় আছে। যার মাধ্যমে মানুষ সত্যকে জানতে পারে। চোখ, কান, নাক জিভ ও তক। এগুলোর মাধ্যমে মানুষ জ্ঞান অর্জন করে। মানুষ চোখ দিয়ে দেখে, কান দিয়ে শব্দ শোনে, নাক দিয়ে শ্বাস নেয় ও গন্ধ অনুভব করে, তক দিয়ে স্পর্শ অনুভব করে আর জিহ্বা দিয়ে স্বাদ অনুভব করে। একে পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় বলে। এর মধ্য থেকে ২টো বা ৩টে জ্ঞানেন্দ্রিয়র মাধ্যেমে মানুষ সত্যকে জানতে পারে। কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করে। যেমন জলকে আমরা চোখে দেখতে পাই। কিন্তু সেই জল ঠাণ্ডা নাকি গরম সেটা বোঝার জন্য তকের প্রয়োজন। এটা মিষ্টি নাকি লবনাক্ত সেটা বোঝার জন্য জিহ্বার প্রয়োজন।

তখন সেই ব্যক্তি বললেন এসব তো ঠিক আছে। কিন্তু এই সবকিছুর সঙ্গে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের কী সম্পর্ক?

তথাগত বললেন, হাওয়া দেখা যায় না। কিন্ত তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা যায় না। কারন, হাওয়ার অস্তিত্ব আমরা অনুভব করতে পারি। আমরা যখন শ্বাস গ্রহণ করি, তখন বাতাস গ্রহণ করি। আমরা স্বাস গ্রহন করলে ও বাইরে ছেড়ে দিলে বাতাস অনুভব করি। তারপর তথাগত বললেন, এবার বলো, আমরা যেমন বাতাস অনুভব করি, একইভাবে, ঈশ্বরকে আমরা এই ৫টি ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করতে পারি কি? 

লোকটি ভাবনায় পড়লেন।

তথাগত বললেন, তুমি কি সত্যিই ঈশ্বরকে দেখেছো?

লোকটি বলল, না।

তোমার বাবা, ঠাকুরদা, বা তাদের বাবা, ঠাকুরদা ঈশ্বরকে দেখেছে কি?

তখন লোকটি বলল, না।

তখন তথাগত বললেন, যখন তুমি দেখোনি, তোমার পূর্বপুরুষেরা কখনো দেবতাকে দেখেনি, তুমি তোমার ৫টি ইন্দ্রিয় দিয়ে কখনো অনুভব করোনি, তাহলে তুমি কিভাবে বলতে পারো যে ঈশ্বর আছে?  

এই বিচারধারা তথাগত বুদ্ধের ছিল, তাই না?

তখন সেই ব্যক্তিকে এই যুক্তির সঙ্গে কিছুটা একমত বলে মনে হচ্ছিল। তবে সেই ব্যক্তি এতেই সন্তুষ্ট হতে পারেন নি। তিনি বুদ্ধকে আবার প্রশ্ন করলেন- তথাগত বাকি সব ঠিক আছে, কিন্তু আমরা জীবিত, এটা সত্য যে আত্মা আছে, তাই না? 

তখন তথাগত সেই ব্যাক্তিকে বললেন, তুমি বলছো যে আত্মা আছে এবং তার কখনও মৃত্যু হয় না, তাই না?

সেই ব্যাক্তি বললেন, হ্যা, ঠিক বলেছেন।

তখন তথাগত বললেন, আমাকে বলো, কোনো একজন মানুষ মারা গেলে তার ঠিক কী অর্থ বোঝায়?  

লোকটি বলল যে, আত্মা মানুষকে ছেড়ে চলে যাওয়ার অর্থ মানুষের মৃত্যু।

বুদ্ধ বললেন, তাহলে আমাকে বলো, আত্মা শরীর ত্যাগ করে, নাকি শরীর আত্মা ত্যাগ করে?

তখন সেই ব্যক্তি বলল, কখনো আত্মা শরীকে ত্যাগ করে। কেউ না কেউ তো অন্যকে ছেড়ে যায়।

বুদ্ধ বললেন, কেন ছেড়ে যায়? বেঁচে থাকার অনিচ্ছার জন্য কি?

তখন সেই ব্যক্তি বলল, না। মানুষের জীবন শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য।

এ প্রসঙ্গে তথাগত বললেন, যদি তাই হতো তাহলে সকল মানুষ ১০০ বছর বেঁচে থাকতে পারতো না। কেউ কেউ এভাবে মরতে পারত। অসুস্থ্যতার কারণে হোক বা যেকোনো কারণেই হোক।

তখন সেই ব্যক্তি বলল, তথাগত আপনি ঠিক বলেছেন। কিন্তু মানুষের মধ্যে যে আত্মা আছে তাকে আপনি কী বলবেন?

তথাগত বললেন, যখন তুমি প্রদীপ জ্বালাও তখন সেই প্রদীপে তেল থাকে, তেলে একটা সলতে থাকে; তুমি সেই প্রদীপ জ্বালানোর জন্য আগুন দেও। তারপর তুমি প্রদীপ জ্বালাও। তাইনা? এবার বলো, এই প্রদীপটা কখন নিভে যায়?

তখন সেই ব্যক্তি বলল, তেল শেষ হয়ে গেলে প্রদীপ নিভে যায়। আবার কখনো তেল থাকলেও প্রদীপটি নিভিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

তথাগত বললেন, এ ছাড়াও প্রদীপ কখন কখন নিভে যেতে পারে?  

সেই ব্যক্তি কোনো উত্তর দিতে পারলো না।

তখন তথাগত বললেন, একটা জোরে হাওয়া এসেও প্রদীপটা নিভিয়ে দিতে পারে। এবার তোমার শরীরকে সেই প্রদীপের মতো মনে করো। আর জীবনকে সেই আগুন মনে করো। বুদ্ধ আরো বললেন, জীবের দেহ চারটি (তত্ব) নিতির সমন্বয়ে গঠিত। পৃথিবী, জল, বায়ু, ও আলো (তেজ বা সুর্য)। পৃথিবী একটা কঠিন পদার্থ। অর্থাৎ মাটি। জল একটি তরল পদার্থ। তেজ হচ্ছে শক্তি, উষ্ণতা। বায়ু হচ্ছে বাতাস। এই চারটি পদার্থ থেকে যখন একটি আলাদা হয়ে যায়, তখন মানুষের মৃত্যু হয়।

শক্তি তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ মারা যায়। আগে বুদ্ধ বললেন, আত্মা আছে কী নেই, আমি এসব নিয়ে ভাবি না। ‘ধম্ম’ এই নির্থক বিষয়গুলো নিয়ে সময় নষ্ট করে না। একজন মানুষের জন্মগ্রহণ থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত সে কিভাবে কাজ করে, তার কর্তব্য পালন করে, ‘ধম্ম’ এই বিষয়ের উপর বিচার করে। কোন কাজ করার পর কী পরিণাম হবে সে বিষয়ে ‘ধম্ম’ বিচার করে। একজন মানুষ জীবিত অবস্থায় কিভাবে স্বর্গ উপলব্ধি করতে পারে সে বিষয়ে ‘ধম্ম’ আমাদের শিক্ষা দেয়। আর জীবিত অবস্থায় একজন মানুষকে অজ্ঞতার জন্য নরক যন্ত্রনা যাতে পেতে না হয়, সে বিষয়েও ‘ধম্ম’ শিক্ষা দেয়। ‘ধম্ম’ অর্থ অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই সকল কথা ঈশ্বর এবং আত্মা সম্পর্কে বুদ্ধ সেই ব্যক্তিকে বললেন।

     এই আলোচনা সম্পর্কে পাঠক আপনার মতামত জানান।

 

         


Read More

Thursday, 8 January 2026

// // Leave a Comment

বাংলা ভাগ ও যোগেন্দ্রনাথ লেখক – জগদীশচন্দ্র রায়





বাংলা ভাগ ও          যোগেন্দ্রনাথ
      লেখক – জগদীশচন্দ্র রায় 

    একটা প্রবাদ আছে যতো দোষ, নন্দ ঘোষ। নন্দ ঘোষের প্রতি দোষের ইতিহাস না জানলেও যাঁর সম্পর্কে এই আলোচনা করছি, এই বিষয় সম্পর্কে তাঁর দোষ কতটা বা অন্যের দোষ কি তাঁর উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? তবে কেন? তাহলে আসল দোষী কে বা কারা? আর কেনই বা তাঁরা যোগেন্দ্রনাথের উপর সমস্ত দোষ চাপিয়ে দিতে চাইছে? কি ই বা তাদের উদ্দেশ্য ? এ সব বিষয়ের উপর আলোকপাত করার চেষ্টা করছি।
    শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর একটা কথা আছে, ‘দেশভাগ হোক না হোক বাংলাকে অবশ্যই ভাগ করতে হবে।” কেন? একবার পাঠকগণ ভেবে দেখুন বা তথ্য খুঁজে দেখুনতো ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ এর পূর্বে সমগ্র(পূর্ব ও পশ্চিম) বাংলায় কোন ব্রাহ্মণ বা উচ্চবর্ণীয়দের শাসন ছিল কি? আর এই সময়ের পরে পশ্চিম বাংলায় কোন নিম্ন বর্ণীয়দের  শাসন এসেছে কি? আশাকরি, বিদগ্ধ পাঠক বুঝতে পেরেছেন শ্যামাপ্রসাদ কেন ঐ কথা বলেছিলেন।
শুধু এই কারণটাই নয়, বাংলা ভাগের অন্যান্য মুখ্য কারণগুলি হলো-
 প্রথম কারণঃ- বাংলা প্রান্তে মুসলিম এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেনীর(বিশেষ করে নমঃশুদ্র) লোকদের সংখ্যা সর্বাধিক ছিল । সেখানে মুসলিম লীগের সরকার ছিল। যদি বাংলার বিভাজন না হয়  তাহলে মুসলিম আর পিছিয়ে পড়া শ্রেনীর সত্তা চিরস্থায়ী হবে। সেখানে উচ্চবর্ণীয়দের কোন অধিকার থাকবে না । 
দ্বিতীয় কারণঃ- বাংলার খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, বরিশাল এই এলাকা থেকে বাবা সাহেবকে নির্বাচিত করে সংবিধান সভায় পাঠানো হয় । তাই বাংলা বিভাজন করে বাবাসাহেব যে ক্ষেত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন সেখান থেকে বাবাসাহেবের সদস্য পদ খারিজ করার উদ্দেশ্যে বাংলা ভাগ করে ছিল 
তৃতীয় কারণঃ-  যে নমঃ(শুদ্র)রা বাবাসাহেবকে সংবিধান সভায় নির্বাচিত করে পাঠিয়েছেলেন তাদেরকে সাজা দেওয়ার জন্য যাতে তারা আজীবন মুসলমানদের আধীন থাকে, এই শিক্ষা দেওয়ার জন্য বাংলা ভাগ করেছিল 
আর একটা কারণ, সেটা আপনারা মানুন আর নাইবা মানুন; সেটা হচ্ছে-
 যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল হচ্ছেন বাংলার আম্বেদকর। তাঁর ক্ষমতা কত সুদূর প্রসারী ও শক্তিশালী, সেটা তাঁর থেকে উপকার প্রাপ্তরা কতটা বুঝেছেন বলা মুশকিল। তবে উচ্চবর্ণীয়রা সেটা হাড়ে হাড়ে  বুঝতে পেরে ছিলেন বাখার গঞ্জ কেন্দ্রের জয় থেকে শুরু করে বাবা সাহেবকে সংবিধান সভায় পাঠানো পর্যন্ত। যার জন্য তারা হর পল মহাপ্রাণের লাগামকে নিজেদের কন্ট্রোলের বাইরে যেতে দেয়নি। বরং সব সময় যোগেন্দ্রনাথে বিরুদ্ধে নিজের জাতির লোক দিয়ে যেমন বিরোধীতা  করিয়েছে। তেমনি তারা বুঝতে পেরেছিল, বাংলা ভাগ না হলে কোন দিনই উচ্চবর্নীয়দের কব্জায় বাংলার শাসন ক্ষমতা আসবে না। তাই গোদের উপর বিষ ফোড়াটাকে স্বমূলে নির্মুল করার  জন্য বাংলা ভাগ করা তাদের কাছে অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। এখানে আর একটা কথা বলে রাখি ঐ সময়ে নেতাজীর অন্তরধান হওয়া উচ্চবর্ণীয়দের বাংলা ভাগ করার কাজটি সুগম হয়।
আপনারা হয়তঃ জানেন। যে গান্ধীর কথা স্কুলে পড়ানো হয়, যে “দেশভাগ হতে হলে আমার মৃত  শরীরে উপর দিয়ে যেতে হবে।”  সেই গান্ধীর উপস্থিতিতে ১৯৪২ সালে ১৫ই জুন কংগ্রেসের অধিবেশনে দেশভাগের প্রস্তাব পাশ হয়। (তথ্যঃ- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ ৩য় খণ্ড লেখক- জগদীশ চন্দ্র মন্ডল)  
    এতোকিছু প্লান মাফিক হওয়ার পরেও বাংলা ভাগের জন্য দোষ চাপিয়ে দেওয়া হ’ল  যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের উপর। কেন? কারণ, আপনারা জানেন, দুর্বা ঘাস প্রচন্ড রোদের শুকিয়ে গেলেও আবার বর্ষার জল পেলে জেগে ওঠে। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই জাতের লোক ছিলেন। যার প্রমান ‘মায়ের ডাক’ পত্রিকায় একবার প্রকাশিত হয়, “যোগেন মন্ডলরা আবার যাগছে।”  অর্থাৎ  কোন প্রকারেই নিশ্চিহ্ন করতে পারছিল না উচ্চবর্ণীয়রা। যার জন্য তারা যোগেন্দ্রনাথের উপর তাদের মিথ্যা অপবাদের শক্তিসেল প্রয়োগ করে। পরিস্থিতি এমন আকার ধারণ করে যে, তাঁর সঙ্গে কেউ দিবালোকেও দেখা করতে যেতে সাহস পেতেন না লজ্জায়বর্তমানে সেই পরিস্থিতি থেকে অনেক উত্তরোণ ঘটলেও কিন্তু শত্রু পক্ষ তাঁরই সমাজের লোকের মধ্যে তাঁর নামে বিভিন্ন ভাবে মিথ্যা প্রচার করেই চলেছে। আর তাঁরই শ্রমের বিনিময়ে সংরক্ষিত সংরক্ষণের(১৯৬৫ এর লকুড় কমিটির সুপারিশ বন্ধ করে নমঃশূদ্র, দাস, সুড়ি/সাহা ও রাজবংশীদের তপশিলী জাতির অন্তর্ভুক্ত করে রাখেন।) সুবিধা নিয়ে সরকারী চাকরী করে তাঁর প্রতি বিষ উগরে দিচ্ছে। একটা  জাতির পক্ষে এর থেকে লজ্জা ও ঘৃণার আর কি হ’তে পারে!!! এই গোলামদের কোন গ্রেড দেবেন আপনারা?   
বাঙ্গলা বিভাজন যাতে না হয় তার জন্য ১৯৪৭ সালে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল বাংলার বিভিন্ন জায়গায় বাংলা বিভাজনের বিরুদ্ধে লোকদের জাগৃত করার কাজ করেন । খড়িবাড়ি(দার্জিলিং) , জলপাইগুড়ী, দিনাজপুর, হরিনারায়নপুর, খোলাপোতা গ্রাম(২৪ পরগনা ) কলকাতা, বর্ধমান, বীরভুম, হুগলী ইত্যাদি জায়গায় বাংলা বিভাজনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন । যেকোন পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাকে বিভাজিত হতে বন্ধকরার চেষ্টা করেছিলেন । বাংলা বিভাজনের পক্ষে
কংগ্রেস আর উচ্চবর্নীয়রা কেন ছিল সেটা জানা খুব দরকার এবিষয়ে সরাসরি তুলে দিলাম নিচের অংশ। অনুসন্ধানী পাঠকরা আশাকরি, বুঝতে পারবেন যে, কাদের স্বার্থে ও চক্রান্তে বাংলা ভাগ হয়েছিল। আর যে কাজে যোগেন্দ্রনাথের কোন অংশগ্রহণই ছিল না তিনি কি করে সেই কাজের জন্য দোষী হন??? দেখুন নিচের অংশ। আর জানান আপনার মতামত।

বঙ্গীয় ব্যবস্থাপরিষদে বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব গৃহীতঃ-

   বৃটিশ গভর্ণমেন্টের ৩ জুনের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ জুন, বঙ্গীয় ব্যবস্থা পরিষদের হিন্দু  সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল সমূহের প্রতিনিধিগণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুইটি পৃথক সভায় মিলিত হলেন। হিন্দু প্রধান জিলাগুলির হিন্দু ও মুসলমান সদস্যগণ একটি সভায় মিলিত হলেন এবং মুলসমান প্রধান জিজাগুলীর হিন্দু ও মুসলমান সদস্যগণ আর একটি পৃথক  সভায় মিলিত হলেন। বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া,  কলকাতা, ২৪  পরগণা, খুলনা, জলপাইগুড়ি এবং দার্লিলিং এই এগারটি হিন্দুপ্রধান জিলার হিন্দু ও মুসলমান  সদস্যগণ যে সভায় মিলিত হলেন তাতে সভাপতিত্ব করলেন বর্ধমানের মহারাজা স্যার উদয়চাঁদ   মহতাব এবং মুসলমান প্রধান জিলাগুলির হিন্দু ও মুসলমান সদস্যগণ মিঃ নূরুল আমিনের  সভাপতিত্বে একটি পৃথক সভায় মিলিত হলেনপ্রথমদিকে কংগ্রেস পক্ষের দাবিতে উভয় অধিবেশনে সমগ্র বাঙলা বর্তমান গণপরিষদে যোগদান করবে বলে একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ১২৬ ভোট এবং পক্ষে ৯০ ভোট হওয়ায় প্রস্তাবটি আগ্রাহ্য হয়।
    পরে হিন্দুপ্রধান অঞ্চলের প্রতিনিধিগণের সভায় বঙ্গবিভাগের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। উক্ত প্রস্তাবটি ৫৮-২১ ভোটে গৃহীত হয়। এই অংশের শাসনতন্ত্র প্রণনের উদ্দেশ্য বর্তমান গণপরিষদে  যোগদানের প্রস্তাব ৫৮-২১ ভোটে গৃহীত হয়। অপরপক্ষে মুসলমান প্রধান অঞ্চলের সসস্যগণের সভায় বঙ্গবিভাগের বিরুদ্ধে ১০৬ জন ও পক্ষে ৩৪ জন কংগেসী সদস্য ভোট প্রদান করেন। এই অংশের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করবার জন্য বর্তমান গণপরিষদে যোগদান করবে না, মুসলমান প্রধান অঞ্চলগুলির জন্য যে নতুন গণপরিষদ গঠি হবে, সেই গণপরিষদে যোগদান করবে তার একটি  প্রস্তাব উত্থাপিত  হয়। মুসলমান প্রধান অঞ্চলগুলির জন্য যে নতুন গণপরিষদ গঠিত হবে, সেই গণপরিষদের যোগদানের প্রস্তাবের পক্ষে ১০৭ জন ও বিপক্ষে  ৩৪ জন ভোট প্রদান করায়  প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। মুসলমান প্রধান সদস্যদের সভায় আর একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তাহলে উক্ত জেলাকে পূর্ববঙ্গ নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে নিতে স্বীকৃত আছে। ১০৫-৩৪ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এই অংশের কংগ্রেসী ৩৪ জন সদস্য প্রত্যকটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

বাঙলা ভাগের যে ভোটাভুটি হয় তাতে যারা অংশ গ্রহণ করেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-

   এই ভোটাভোটিতে মোট ২২৫ জন সদস্য অংশ গ্রহণ করেন। তন্মধ্যে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট অঞ্চলের ৮০ জন এবং মুসলমান গরিষ্ঠ অঞ্চলের ১৪৫ জন। ইউরোপীয়ান ২৫ ভোট দানে বিরত থাকেন। হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ এলাকার ৮০ জনের মধ্যে, হিন্দু ৫৮ জন, মুসলমান ২১ জন,  এয়াংলো ইন্ডিয়ান ৪ জন এবং ভারতীয় খৃষ্টান ১ জন।
     উক্ত ৫৪ জন হিন্দুর মধ্যে অ-কংগ্রেসী ভোটার ৫ জন। তারা হলেন – ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী (হিন্দুমহাসভা) মহারাজাধিরাজ স্যার উদয়চাঁদ মহতাব (স্বতন্ত্র), মুকুন্দবিহারী মল্লিক (স্বতন্ত্র), রতনলাল ব্রাহ্মণ (কমিউনিষ্ট) এবং জ্যোতি বসু (কমিউনিষ্ট)।
    ২১ জন মুসলমানের বিশিষ্টদের মধ্যে মিঃ এস. এইচ. সোহারাবর্দী (মূখ্যমন্ত্রী), মিঃ এম. এ. এই. ইস্‌পাহানী (মুসলিম লীগের কার্যকরী সমিটির সদস্য),  মিঃ আবুল হুসের (সম্পাদক, বঙ্গীয় মুসলিম লীগ), মিঃ আবদুর রহমান (সমবায় ও ত্রাণ দপ্তরের মন্ত্রী) এবং নবাব মুসারফ হোসেন।
    মুসলমান সংখ্যা গরিষ্টদের এলাকায় হিন্দু কিরণশঙ্কর রায়, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (যথাক্রমে কংগ্রেস এসেমব্লি পার্টির নেতা ও উপনেতা), নেলী সেনগুপ্ত এবং পি. আর. ঠাকুর (প্রমথরঞ্জন ঠাকুর)।
    মুসলমান গরিষ্ঠ অঞ্চলের ১৪৫ জনের মধ্যে, মুসলমান ১০৩ জন, হিন্দু ৪১ জন, ভারতীয় খৃষ্ঠান ১ জন।
    ৪১ জন হিন্দুর মধ্যে ৬ জন অ-কংগ্রেসী তফশিলী সদস্য, তন্মধ্যে মন্ত্রীদ্বয় দ্বারিকনাথ বারুরী ও নগেন্দ্র নারায়ণ রায়, মহারাজা গিরিশচন্দ্র নন্দী, সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী, ভোলানাথ বিশ্বাস, হারাণচন্দ্র বর্মণ (উপয় পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী), গয়ানাথ বিশ্বাস (ময়মন সিং) এবং একজন কমিউনিষ্ট সদস্য ছিলেন।
    মুসলমানদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লিখিত মিঃ এ.কে. ফজলুল হক, মিঃ মহাম্মদ আলি (রাজস্ব মন্ত্রী), মিঃ নুরুল আমিন (স্পিকার), মিঃ আহম্মদ হোসেন (কৃষি মন্ত্রী), মিঃ সামসুদ্দীন আহম্মদ (শ্রম ও বাণিজ্যমন্ত্রী) অন্যতম।
    পশিমবঙ্গ ব্লকের দুইটি হিন্দু আসন, যথাক্রমে কলিকাতা পূর্ব (সাধারণ) এবং জলপাইগুড়ি- শিলিগুড়ি সাধারণ (তফশিলী আসন দুটিকে ভোট থেকে বিরত রাখা হয়। তাছাড়া, বাখরগঞ্জ দক্ষিণ- পশ্চিম সাধারণ ( তফশিলী) আসনটিকেও ভোট থেকে বিরত রাখা হয়।
বাখরগঞ্জ দক্ষিন- পশ্চিম সাধারণ তফশিলী আসনটির নির্বাচিত সদস্য আমাদের যোগেন্দ্রনাথ। যোগেন্দ্রনাথকে এই ভোটাভোটিকে অংশ গ্রহণে বিরত রাখার কারণ যোগেন্দ্রনাথ তখন অন্তর্বর্তী সরকারে আইনমন্ত্রী। সুতরাং ব্যবস্থা পরিষদের এই ভোটাভোটিতে তাঁর পক্ষে যোগদান করা আইনগত দিক থেকে বাধা ছিল। তে প্রামণ হয় ভারত তথা বাঙলা ভাগের ব্যাপারে যোগেন্দ্রনাথের কোনও মতামত গ্রহণ করা হয়নি।
    কথায় বলে চোরের মার বড় গলা। যাদের ভোটে বাঙলা ভাগ হল, যার ফলে উভয় বাঙলার বিপুল সংখ্যক লোক তাদের পৈতৃক বাসস্থান হতে উৎখাত হলেন, স্বাধীন দেশে যারা পরিচিত হলে উদ্বাস্তু বলে, আজ তাদের ভাগ্য নিয়ে সারা রাজনৈতিক ফয়দা তুলছেন, সেই সকল স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতা ও সমর্থকদের সঙ্গে সমসুরে সুর মিলিয়ে যোগেন্দ্রনাথের স্ব-জাতীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী উচ্চস্বরে চিৎকার করেন- বাঙলা ভাগের জন্য প্রধানত যোগেন্দ্রনাথই দায়ী। সরল প্রাণ বাঙালি এদের ক্ষমা করলেও ইতিহাস এদের ক্ষমা করবে না।
(তথ্য সংগ্রহ- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ ৩য় খন্ড পৃঃ ১৪৭-১৫০ লেখক – জগদীশ চন্দ্র মন্ডল )
----------------







Read More

Wednesday, 7 January 2026

// // Leave a Comment

ব্রাহ্মণবাদের সম্পর্কে ড. বাবাসাহেব আম্বেদকরের এই সতর্ক বার্তা কয়জন সমাজ কর্মী জানেন?


 ব্রাহ্মণবাদের সম্পর্কে ড. বাবাসাহেব আম্বেদকরের এই সতর্ক বার্তা কয়জন সমাজ কর্মী জানেন? ১১. ইসলামের পক্ষ থেকে বৌদ্ধধম্মের প্রতি বিপদ আর নেই, কিন্তু ব্রাহ্মণ্যবাদের পক্ষ থেকে বিপদ বিদ্যমান। এটিই হবে এর সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। একজন ব্রাহ্মণ যে রঙই ধারণ করুক বা যে দলেই যোগ দিক না কেন, সে ব্রাহ্মণই থাকবে। কারণ ব্রাহ্মণরা স্তরভিত্তিক সামাজিক বৈষম্যের ব্যবস্থাটি বজায় রাখতে চায়। কারণ এই স্তরভিত্তিক বৈষম্যই ব্রাহ্মণদের সবার উপরে এবং সবার শীর্ষে স্থাপন করেছে। বৌদ্ধধম্ম সমতায় বিশ্বাসী। বৌদ্ধধম্ম তাদের প্রতিপত্তি ও ক্ষমতার মূলে আঘাত হানে। একারণেই ব্রাহ্মণরা এটিকে ঘৃণা করে। এটা খুবই সম্ভব যে, যদি ব্রাহ্মণদের বৌদ্ধধম্ম পুনরুজ্জীবনের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে দেওয়া হয়, তবে তারা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে এটিকে বানচাল করতে পারে বা ভুল পথে চালিত করতে পারে। তাই, আমাদের আন্দোলনের অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের ক্ষমতার পদ থেকে দূরে রাখার সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

11. The danger to Buddhism from Islam no longer exists but the danger from Brahminism exists. It will be its toughest opponent. A Brahmin will remain a Brahmin no matter what colour he assumes or what party he joins. That is because Brahmins want to maintain the system of graded social inequality. For it is this graded inequality which has raised the Brahmins above all and to be on the top of everybody. Buddhism believes in equality. Buddhism strikes at the very root of their prestige and power. That is why the Brahmins hate it. It is quite possible that if the Brahmins are allowed to lead the movement of revival of Buddhism they may use their power to sabotage it or misdirect it. The precaution to exclude them from position of power at least in the early stages of our movement is, therefore, very necessary. (DR. BABASAHEB AMBEEKAR WRITINGS AND SPEECHES VOL-17 PART THREE. PAGE No. 511)


Read More

Saturday, 3 January 2026

// // Leave a Comment

Ambedkar’s letter to Jogendranath mandal about after Partition What should be to do. বই-মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল, লেখক- জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ২ থেকে ৪)

 


Ambedkar’s letter to Jogendranath mandal about after Partition What should be to do. বই-মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল, লেখক- জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ২ থেকে ৪)                         







CONFIDENTIAL

BHIMRAO R. AMBEDKAR

M.A., Ph.D., D.Sc.,

Barrister-at-Law

'RAJGRAHA

Dadar, Bombay-14

2nd June, 1947

My dear Mandal,

     Your letter of the 30th May, 1947 was delivered to me by Mr. Meshram yesterday. I am sorry that for the whole of last month owing to severe pain in my left leg I have been confined to bed and disable from taking any active interest in public affairs. I wish to come to Delhi on the 4th by air to attend the Union Constitution Committee to which I have been appointed. But that depends upon my fitness to move. In case I am still advised by Doctors not to move I shall let you know my views about the question of partition of Bengal. I have always felt that the British have refused to recognise the Scheduled Castes as a separate and independent entity. The Scheduled Castes were incapable of doing anything precisely with regard to the question of partition. They could neithr force partition nor could they prevent partition if it was coming. The only course left to the Scheduled Castes is to fight for safeguards either in United Bengal or a devided Bengal. I also hold the view that the Muslims are not greater friends of Scheduled Castes than the Hindus and that if the Scheduled Castes should by their own circumstances are destined to live in a minority whether a Hindu Bengal or a Muslim Bengal, the only one course is to fight for safeguards for every possible emergency. It is possible for the reasons you have mentioned that the Scheduled Castes in Eastern Bengal will elect to stay where they are even when partition comes. I have of course told the Hindus that in case here is partition they shall have to agree to reserve some land in Western Bengal for the Scheduled Castes of Eastern Bengal when the Damodar Valley Project matures and more land is made available for cultivation and in case the Scheduled Castes of Eastern Bengal express a desire to migrate to Western Bengal. This is however a somewhat remote possibility. In the meantime I agree that you should work in alliance with the League and secure adequate safeguards for them, I am not quite so hopeless as you are with regard to the attitude of the Hindus in Evelock to give political safeguards to the Scheduled Castes. There isn't a chastened mind. In so far as I am able to judge I think they will agree to almost all the safeguards that we want. The only thing they will insist on is some modified form of separate electorate. The Muslim League however, will be ready to give to the Scheduled Castes separate electorates more probably because they themselves want separate electorates for their own community. So far as the Eastern Bengal Scheduled Castes are concerned that no doubt is an advantage.

     You have asked me to let you have what demands you should put up before Muslim League. I have formulated a set of demands in my Memorandum which has been printed and circulated to the Members of Minorities Committee. I am sending a copy of it to you for your information. In my view that Memorandum contains all that we need for our protection, not only in Eastern Bengal but in every province in India. I think you should make this memorandum the best use in your negotiations with Muslim League. Of course, you are free to add to it any new safeguards for our people in Eastern Bengal which you think there are some special circumstances which call for such safeguards.

I have been already apprise of the plight of the Satyagrahis in Lucknow Jail. I am sending two of my representatives to Lucknow in order to inspect and state the conditions of the Satyagrahis in Jail. I have also referred to the Prime Minister U.P. Of course, our own people having thrown a challenge to the Government of U.P. in the form of Satyagraha, prestige release the Satyagrahis. But if some agreement is reached with regards to our safeguards in Minoritee Committee, I should of course make their immediate release a part of the bargain.

With kind regards,

Yours sincerely,

B. R. Ambedkar

Hon'ble Mr. J. N. Mandal,

Law Member to the Govt. of India, New Delhi.

তথ্য- বই-মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল, লেখক- জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ২ থেকে ৪)   






Read More

Tuesday, 30 December 2025

// // 3 comments

সংরক্ষণ

http://www.mediafire.com/download/53fvm6w4m7jimz5/What_is_Reservation_do_you_know.m4a

সংরক্ষণ

জগদীশচন্দ্র রায়(মুম্বাই)

      সংরক্ষণ নিয়ে সাধারণত যে আলোচনা হয়, সেটা  Scheduled Caste (SC), Scheduled Tribe (ST) দের সংরক্ষণ নিয়েতারপরে আসে OBC দের সংরক্ষণ নিয়ে। এই সংরক্ষণ তিন প্রকার।             

()শিক্ষায় সংরক্ষণ

() চাকরীতে সংরক্ষণ                

এবং () নির্বাচনে সংরক্ষণ


Scheduled Caste (SC), Scheduled Tribe (ST) এবং Other Backward class (OBC). সংবিধানে SC দের সংরক্ষণ 15.% ST দের 7.50% এদের জন সংখ্যা হিসাবে এই সংরক্ষণ নির্ধারিত হয়েছিলপরে OBC দের জনসংখ্যা 52% হওয়া সত্যেও 27% সংরক্ষণ কেন্দ্রীয় সরকারী হিসাবে নির্ধারিত হয়েছেরাজ্য সরকারী হিসাবে এই % আরো কম। এক এক রাজ্যে একক রকমএই তিন জাতি গোষ্ঠীর জন্য মোট সংরক্ষণ 50%. এদের মধ্যে ধর্ম পরিবর্তিদের অর্থাৎ যারা এই তিন জাতি গোষ্ঠীর থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছে তাদের জনসংখ্যা 10.5%. যাদের মোট জনসংখ্যা হচ্ছে 85%. এই 85% জনগণের অধিকার 50% সংরক্ষণেযদিও সংবিধানে এই কথা উল্লেখ নেই যে সংরক্ষণ 50% এর ঊর্ধে হতে পারবে নাSouth India তে 69% সংরক্ষণ আছেআর সেখানকার প্রগতি ভারতবর্ষের অন্য যেকোন রাজ্যের থেকে অনেক বেশি

    যে কথা বলছিলাম- 85% ভারতের জনসংখ্যার জন্য সংরক্ষণ 50% আর বাকি 15% লোকের জন্য অলিখিত সংরক্ষণ 50%. এর পরে আরো আছেন 85% এর জন্য যে 50% সংরক্ষণ নির্ধারিত, তারা পায় বা পেয়ে থাকে বা ভোগ করে এই 50% এর  অর্ধেকের ও কম যেটা কম, সেটাও ভোগ করে ঐ 15% লোকেরাএই 15% লোক কারা? এরা ব্রাহ্মণ, ক্ষৈত্র এবং বৈশ্যযাদের জনসংখ্যা যথাক্রমে 3.5%, 4.50%, 7%

     এবার দেখুন এই তিন শ্রেণির লোকেরা 15% হয়েও 50% এর অধিক সুবিধা ভোগ করছেকিন্তু এদের এতেও শান্তি নেই তাই প্রতিনিয়ত SC, ST, OBC দের প্রতি বিষ নিক্ষেপ করে চলেছেতাদের কথা হচ্ছে সংরক্ষণের জন্য দেশ পিছিয়ে পড়ছেআপনারা একটু ভাবুন তো সত্যি সত্যি দেশ কাদের জন্য পিছিয়ে পড়ছে? সেটা আপনারা কখনও ভাববেন নাকারণ এই পিছিয়ে পড়া শ্রেণির লোকদের তো আপনারা মানুষ বলে মনে করেন না। তাইতো তাদের SC- 1500, ST -700, OBC- 4743 জাতিতে বিভক্ত করেছেনজাতি হয় পশুদের মধ্যে। আপনারা এই SC, ST, OBC দের পশুর স্তরে নামিয়ে দিয়েছেনতথাকথিত স্বাধীনতার পর শাসন ভার কাদের হাতে চলছে? প্রশাসনে কয়জন SC, ST, OBC আছে? তবুও যতো দোষ নন্দ ঘোষ? আপনারা কথায় কথায় বলেন সংরক্ষণ আর্থিকতার উপর হওয়া দরকারকিন্তু সংবিধানে সংরক্ষণ তো আর্থিকতার উপর ভিত্তিকরে নির্ধারিত হয়নিসংরক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে সামাজিক বৈসম্যের আধারে। আর সেই বৈসম্য করেন আপনারাকিন্তু সেকথা কেউ মনের ভুলেও উচ্চারণ করেন না কেন?

 

     একবার দেখে নেওয়া যাক এই সংরক্ষণের আধার criteria কী? তার আগে দেখি কাদের SC বলা হয়

বহু শিক্ষিত লোক আছেন, যাঁরা Scheduled Caste কথাটার মর্ম বোঝেন না, এমনকি যারা চাকরিজীবি তারাও এর প্রকৃত অর্থ জানেন না। SC নামে কোন জাতি নেইকতকগুলি জাতির সমষ্টি হচ্ছে SC. S-Scheduled, যার অর্থ অনুসূচীঅনু মানে ক্রমাঙ্ক এবং সূচী মানে তালিকাঅর্থাৎ সূচী বা ক্রমবদ্ধ অর্থাৎ ধারাবাহিক তালিকাভুক্ত জাতি

কোন জাতিকে SC -এর তালিকাভুক্ত করার জন্যে তিনটি শর্ত আছে

() শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসরতা,

() সামাজিকভাবে অনগ্রসরতা,

   () এদের সঙ্গে অস্পৃশ্যতামূলক আচরণ

ST- দের জন্যেও এরূপ তিনটি শর্ত আছে। 

() শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসরতা,

() সামাজিকভাবে অনগ্রসরতা,

   () যাদের মধ্যে আদিম জীবন-যাত্রার বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়

 

আর OBC -দের ক্ষেত্রেও তিনটি শর্ত আছে

() শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসরতা,

() সামাজিকভাবে অনগ্রসরতা,

   () SC/ST নয়, অথচ অনগ্রসর

 

     আপনাদের মধ্যে তো ভগবানের ছড়াছড়িকিন্তু কোন ভগবান বা আপনাদের মহামানব এই সামাজিক বৈসম্য, অস্পৃশ্যতা , জাতি বিভাজন দূর করার জন্য কিছু করেছেন? আপনারা যেটা করেন বা দেখান সেটা এই বৈসম্য যাতে চালু থাকে সেই উদ্দেশ্যেসত্যি সত্যি এই  সামাজিক ব্যাধি থেকে সমাজ তথা দেশকে মুক্ত করার জন্য নয়  

     সংবিধানে যে তিন প্রকার মূল সংরক্ষণের উল্লেখ আছে, সেখান শিক্ষা ও চাকরির সংরক্ষণের কোন নির্ধারিত সময় সীমার উল্লেখ নেইআর নির্বাচনে সংরক্ষণ ছিল দশ বছরের জন্যকিন্তু প্রতি দশ বছর পরে পরবর্তি দশ বছরের জন্য নির্বাচনের সংরক্ষণকে বাড়িয়া দেওয়া হয়কেন? এই দশ বছরের জন্য বাড়ানোর জন্য কি কোন  SC,ST রা কোন প্রকার আন্দোলন করেছে? তবে কেন? আর কেন বাড়াতে হবে তার জন্য সংসদে কি কোন চর্চা হয়? কেন হয় না? কারণ চর্চা হলে দেখা যেত নির্বাচনের সংরক্ষণের ফলে SC, ST রা কোন প্রকার উপকার পাচ্ছে না। সেটা পাচ্ছে বাকি শ্রেণির লোকেরাSC, ST দের মধ্যে থেকে যারা নির্বাচনে জয়ী হন, তারা পার্টির প্রতিনিধি রূপে কাজ করনে। তাঁর সমাজের জন্য নয়যদি কেউ ভুল করে ও তাঁর সমাজের কথা উল্লেখ করেন তবে তাঁকে জাত-পাত, সাম্প্রদায়িক বলে কুচেমাছের চাল ছাড়ানোর মতো ছাল ছাড়ানো হয় মিডিয়ার মাধ্যমেফলে এরাঁ মনের ভুলে ও তাঁর সমাজের নাম  নিতে সাহস পান না। গোলামিতে আনন্দ উপভোগ করেতাই এই যে, যে নির্বাচনে সংরক্ষণের বৃদ্ধি এটা বর্ণবাদীদের সুবিধার জন্যই। এখানে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে যে, যখন এই নির্বাচনের সংরক্ষণ পরবর্তি দশ বছরের জন্য বাড়ানো হয়, তখন মিডিয়া প্রচার করে SC, ST দের জন্য শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রের সংরক্ষণ দশ বছরের জন্য বাড়ানো হোলএটা শুনে SC, ST দের বাকিরা গালি দিতে শুরু করেযে গালি দেওয়ানোর কাজ ইচ্ছা করে করানো হয়কারণ যাকে নীচ্‌ করে রাখা হয় তাকে গালি দিতে নীচ্‌ করে রাখার লোকদের মজা হয়তাহলে এবার বলুন তো কে প্রকৃত সংরক্ষণের সুবিধা ভোগ করছে? এই 85% লোকেরা 50% নিয়ে, নাকি 15% লোকেরা 50% নিয়ে?

 

রিজার্ভেশান রিবি হটাও এর কর্মসূচী নয়।

     Sc, ST & OBC এর সাংবিধানিক রিজার্ভেশানের মূল অর্থ হচ্ছে –

প্রতিনিধিত্ব (representation)। যদিও এ প্রতিনিধিত্বের মূল ধারণাকে বদলে দিয়ে গতানুগতিক রিজার্ভেশনের সঙ্গে গুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে। যার ফলে এই প্রতিনিধিত্বকে সমাপ্ত করার জন্য  কৌশল করে আওয়াজ তোলা হচ্ছে আর্থিক ভিত্তিতে রিজার্ভেশন দেওয়ার দেওয়া হোক। এই  আওয়াজে বৈদিকবাদীরাতো আছেই সঙ্গে তাল মিলাচ্ছে কিছু দালাল। বাবা সাহেব বলেছিলেন,  আমি কাজ করার জন্য তীক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন লোক না পেলেও চলবে, সেটা আমি পূর্ণ করে নেব। আমি ইমানদার লোক চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাবা সাহেবের দেওয়া সুবিধার সুযোগ নিয়ে নিজের সমাজের জন্য ইমানদার না হয়ে, বৈদিকবাদীদের কাছে কিছু পাওয়ার আশায় সমাজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তাই বাবা সাহেবের স্বপ্ন অপূর্ণই রয়েগেল।  

সংবিধানের  15(4) & 16(4) ধারায় বাবাসাহেব বলেছেন- ১. Those who are adequately not represented. যাদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নেই। তারাই শুধুমাত্র রিজার্ভেশনের অধিকারী। যাদের কাছে ক্ষমতার সব কিছু আছে তারা সংরক্ষণ পাবেনা।     

     ২. বাবা সাহেব বলেছেন- Those who are the members of the scheduled caste scheduled tribe or socially and educationally back word classes. সামাজিক ও শিক্ষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে পিছিয়ে পড়া, অনু্সূচীত জাতি বা অনুসূচীত উপজাতির হলে এবং পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না পেলে এই শর্তের অধিকারীরা সংরক্ষণের সুবিধা পাবে। 

     অনেকেই বলেন সংরক্ষণ আর্থিক ভিত্তিতে হওয়া দরকার। কিন্তু রিজার্ভেশান আর্থিক  ভিত্তিতে গঠিত নয়। আর্থিক ভিত্তিতে ৪৬ ধারায় লেখা আছে যারা আর্থিক দৃষ্টিতে দুর্বল তাদের জন্য সরকারের উচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। (The State shall promote with special care the educational and economic interests of the weaker sections of the people)

     তাই বি.পি.এল. আর সংরক্ষণের কার্যক্রম একত্র নয়। দারিদ্র রেখার নিচের লোকদের জন্য  কার্যক্রম হওয়া দরকার। যার মধ্যে সব জাতির লোক থাকতে পারবেযেটা হচ্ছে দারিদ্র  নির্মূলনের কার্যক্রম। কিন্তু রিজার্ভেশন হচ্ছে প্রতিনিধিত্বের সামাজিক ন্যায়ের কার্যক্রম।  এদুটো  কখনো এক হতে পারেনা। দরিদ্রদের প্রতি ন্যায়ের জন্য সংবিধানে ৩৮, ৩৯, ৪১ ও ৪৬  ধারা আছে।  সংবিধানে এবিষয়ে বিস্তারিত বর্নণা আছে। দুটোকে একত্র করে উদ্দেশ্যকে বিপথগামী করার কাজ চলছে।  

     সুপ্রিম কোর্ট ১৬ নভেম্বর ১৯৯২ এর স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যেটা ৯ জন বিচারক (এম. এস. কানিয়া (প্রধান বিচারক), ভেঙ্কট চালাইয়া, এ এম আহমদি, বি.পি. জীবন রেড্ডি, এস. আর.  পান্ডিয়ান, পি. বি. সাবন্ত, পি. কে. থমন ও কুলদীপ সিংহ)  বিচারকের বেঞ্চ জানিয়েছেন যে, There must be a commission appointed by government or experts. চার মাসের মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে এই কমিশন অবশ্যই গঠন করতে হবে।

    ভোট আসার পূর্ব মূহর্ত থেকেই রিজার্ভেশন দেওয়ার নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রলোভোন দেওয়া হয়। যেটার কোনো বাস্তবতা থাকেনা। 15(4) & 16(4) ধারায় রিজার্ভেশন হচ্ছে এই মূল রিজার্ভেশনের অংশ। এটা কিছুতেই বদলানো সম্ভব নয়।  

     ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালে নরসিং রাও এর সময়ে আর্থিক ভিত্তিতে ১০% রিজার্ভেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। কিন্তু ১৬ নভেম্বর ১৯৯২ এ ইন্দ্রা স্বাহনী বনাম ভারত সরকার (Indira Sawhney &Ors v. Union of India.) এর কেসে সুপ্রিম কোর্ট সেটাকে নাকচ করে দেন এবং সেটাকে সংবিধান বিরোধী বলে ঘোষণা করেন।    

     কিন্তু তবুও কিছু লোক পুনরায় আর্থিক ভিত্তিতে রিজার্ভেশনের জন্য জোরালো দাবি করছে। তারা বলছে আর্থিক ভিত্তিতে রিজার্ভেশন দেওয়ার জন্য সংবিধান বলদ করো। কিন্তু তারা জানেনা বা জেনে না জানার ভান করে। সংবিধান বদলানো যায়কিন্তু মূল ধারাতে হাতও লাগানো যায়না।  সে ব্যবস্থা বাবাসাহেব সংবিধানে করে রেখেছেন। আর্থিকভাবে রিজার্ভেশনের কথা সেটা দারিদ্র   নির্মূল করণের বিষয়, আর রিজার্ভেশন হচ্ছে প্রতিনিধিত্বের বিষয়। এটা কিছুতে দারিদ্র নির্মূলকরণের কার্যক্রম নয়। তবুও  কিছু প্রতিক্রিয়াশীলরা বার বার আওয়াজ তুলছে গরিবদের  জন্য রিজার্ভেশ দেওয়া হোক।  

(তথ্য সংগ্রহ – Marathi speech of  Prof. Hari Narke. 54 Books Author, Professor, Researcher & Editor of Dr Babasaheb Ambedkar & Mahatma Phule's Books.)

                            _____________________

Read More