Tuesday, 30 December 2025

// // 3 comments

সংরক্ষণ

http://www.mediafire.com/download/53fvm6w4m7jimz5/What_is_Reservation_do_you_know.m4a

সংরক্ষণ

জগদীশচন্দ্র রায়(মুম্বাই)

      সংরক্ষণ নিয়ে সাধারণত যে আলোচনা হয়, সেটা  Scheduled Caste (SC), Scheduled Tribe (ST) দের সংরক্ষণ নিয়েতারপরে আসে OBC দের সংরক্ষণ নিয়ে। এই সংরক্ষণ তিন প্রকার।             

()শিক্ষায় সংরক্ষণ

() চাকরীতে সংরক্ষণ                

এবং () নির্বাচনে সংরক্ষণ


Scheduled Caste (SC), Scheduled Tribe (ST) এবং Other Backward class (OBC). সংবিধানে SC দের সংরক্ষণ 15.% ST দের 7.50% এদের জন সংখ্যা হিসাবে এই সংরক্ষণ নির্ধারিত হয়েছিলপরে OBC দের জনসংখ্যা 52% হওয়া সত্যেও 27% সংরক্ষণ কেন্দ্রীয় সরকারী হিসাবে নির্ধারিত হয়েছেরাজ্য সরকারী হিসাবে এই % আরো কম। এক এক রাজ্যে একক রকমএই তিন জাতি গোষ্ঠীর জন্য মোট সংরক্ষণ 50%. এদের মধ্যে ধর্ম পরিবর্তিদের অর্থাৎ যারা এই তিন জাতি গোষ্ঠীর থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছে তাদের জনসংখ্যা 10.5%. যাদের মোট জনসংখ্যা হচ্ছে 85%. এই 85% জনগণের অধিকার 50% সংরক্ষণেযদিও সংবিধানে এই কথা উল্লেখ নেই যে সংরক্ষণ 50% এর ঊর্ধে হতে পারবে নাSouth India তে 69% সংরক্ষণ আছেআর সেখানকার প্রগতি ভারতবর্ষের অন্য যেকোন রাজ্যের থেকে অনেক বেশি

    যে কথা বলছিলাম- 85% ভারতের জনসংখ্যার জন্য সংরক্ষণ 50% আর বাকি 15% লোকের জন্য অলিখিত সংরক্ষণ 50%. এর পরে আরো আছেন 85% এর জন্য যে 50% সংরক্ষণ নির্ধারিত, তারা পায় বা পেয়ে থাকে বা ভোগ করে এই 50% এর  অর্ধেকের ও কম যেটা কম, সেটাও ভোগ করে ঐ 15% লোকেরাএই 15% লোক কারা? এরা ব্রাহ্মণ, ক্ষৈত্র এবং বৈশ্যযাদের জনসংখ্যা যথাক্রমে 3.5%, 4.50%, 7%

     এবার দেখুন এই তিন শ্রেণির লোকেরা 15% হয়েও 50% এর অধিক সুবিধা ভোগ করছেকিন্তু এদের এতেও শান্তি নেই তাই প্রতিনিয়ত SC, ST, OBC দের প্রতি বিষ নিক্ষেপ করে চলেছেতাদের কথা হচ্ছে সংরক্ষণের জন্য দেশ পিছিয়ে পড়ছেআপনারা একটু ভাবুন তো সত্যি সত্যি দেশ কাদের জন্য পিছিয়ে পড়ছে? সেটা আপনারা কখনও ভাববেন নাকারণ এই পিছিয়ে পড়া শ্রেণির লোকদের তো আপনারা মানুষ বলে মনে করেন না। তাইতো তাদের SC- 1500, ST -700, OBC- 4743 জাতিতে বিভক্ত করেছেনজাতি হয় পশুদের মধ্যে। আপনারা এই SC, ST, OBC দের পশুর স্তরে নামিয়ে দিয়েছেনতথাকথিত স্বাধীনতার পর শাসন ভার কাদের হাতে চলছে? প্রশাসনে কয়জন SC, ST, OBC আছে? তবুও যতো দোষ নন্দ ঘোষ? আপনারা কথায় কথায় বলেন সংরক্ষণ আর্থিকতার উপর হওয়া দরকারকিন্তু সংবিধানে সংরক্ষণ তো আর্থিকতার উপর ভিত্তিকরে নির্ধারিত হয়নিসংরক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে সামাজিক বৈসম্যের আধারে। আর সেই বৈসম্য করেন আপনারাকিন্তু সেকথা কেউ মনের ভুলেও উচ্চারণ করেন না কেন?

 

     একবার দেখে নেওয়া যাক এই সংরক্ষণের আধার criteria কী? তার আগে দেখি কাদের SC বলা হয়

বহু শিক্ষিত লোক আছেন, যাঁরা Scheduled Caste কথাটার মর্ম বোঝেন না, এমনকি যারা চাকরিজীবি তারাও এর প্রকৃত অর্থ জানেন না। SC নামে কোন জাতি নেইকতকগুলি জাতির সমষ্টি হচ্ছে SC. S-Scheduled, যার অর্থ অনুসূচীঅনু মানে ক্রমাঙ্ক এবং সূচী মানে তালিকাঅর্থাৎ সূচী বা ক্রমবদ্ধ অর্থাৎ ধারাবাহিক তালিকাভুক্ত জাতি

কোন জাতিকে SC -এর তালিকাভুক্ত করার জন্যে তিনটি শর্ত আছে

() শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসরতা,

() সামাজিকভাবে অনগ্রসরতা,

   () এদের সঙ্গে অস্পৃশ্যতামূলক আচরণ

ST- দের জন্যেও এরূপ তিনটি শর্ত আছে। 

() শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসরতা,

() সামাজিকভাবে অনগ্রসরতা,

   () যাদের মধ্যে আদিম জীবন-যাত্রার বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়

 

আর OBC -দের ক্ষেত্রেও তিনটি শর্ত আছে

() শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসরতা,

() সামাজিকভাবে অনগ্রসরতা,

   () SC/ST নয়, অথচ অনগ্রসর

 

     আপনাদের মধ্যে তো ভগবানের ছড়াছড়িকিন্তু কোন ভগবান বা আপনাদের মহামানব এই সামাজিক বৈসম্য, অস্পৃশ্যতা , জাতি বিভাজন দূর করার জন্য কিছু করেছেন? আপনারা যেটা করেন বা দেখান সেটা এই বৈসম্য যাতে চালু থাকে সেই উদ্দেশ্যেসত্যি সত্যি এই  সামাজিক ব্যাধি থেকে সমাজ তথা দেশকে মুক্ত করার জন্য নয়  

     সংবিধানে যে তিন প্রকার মূল সংরক্ষণের উল্লেখ আছে, সেখান শিক্ষা ও চাকরির সংরক্ষণের কোন নির্ধারিত সময় সীমার উল্লেখ নেইআর নির্বাচনে সংরক্ষণ ছিল দশ বছরের জন্যকিন্তু প্রতি দশ বছর পরে পরবর্তি দশ বছরের জন্য নির্বাচনের সংরক্ষণকে বাড়িয়া দেওয়া হয়কেন? এই দশ বছরের জন্য বাড়ানোর জন্য কি কোন  SC,ST রা কোন প্রকার আন্দোলন করেছে? তবে কেন? আর কেন বাড়াতে হবে তার জন্য সংসদে কি কোন চর্চা হয়? কেন হয় না? কারণ চর্চা হলে দেখা যেত নির্বাচনের সংরক্ষণের ফলে SC, ST রা কোন প্রকার উপকার পাচ্ছে না। সেটা পাচ্ছে বাকি শ্রেণির লোকেরাSC, ST দের মধ্যে থেকে যারা নির্বাচনে জয়ী হন, তারা পার্টির প্রতিনিধি রূপে কাজ করনে। তাঁর সমাজের জন্য নয়যদি কেউ ভুল করে ও তাঁর সমাজের কথা উল্লেখ করেন তবে তাঁকে জাত-পাত, সাম্প্রদায়িক বলে কুচেমাছের চাল ছাড়ানোর মতো ছাল ছাড়ানো হয় মিডিয়ার মাধ্যমেফলে এরাঁ মনের ভুলে ও তাঁর সমাজের নাম  নিতে সাহস পান না। গোলামিতে আনন্দ উপভোগ করেতাই এই যে, যে নির্বাচনে সংরক্ষণের বৃদ্ধি এটা বর্ণবাদীদের সুবিধার জন্যই। এখানে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে যে, যখন এই নির্বাচনের সংরক্ষণ পরবর্তি দশ বছরের জন্য বাড়ানো হয়, তখন মিডিয়া প্রচার করে SC, ST দের জন্য শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রের সংরক্ষণ দশ বছরের জন্য বাড়ানো হোলএটা শুনে SC, ST দের বাকিরা গালি দিতে শুরু করেযে গালি দেওয়ানোর কাজ ইচ্ছা করে করানো হয়কারণ যাকে নীচ্‌ করে রাখা হয় তাকে গালি দিতে নীচ্‌ করে রাখার লোকদের মজা হয়তাহলে এবার বলুন তো কে প্রকৃত সংরক্ষণের সুবিধা ভোগ করছে? এই 85% লোকেরা 50% নিয়ে, নাকি 15% লোকেরা 50% নিয়ে?

 

রিজার্ভেশান রিবি হটাও এর কর্মসূচী নয়।

     Sc, ST & OBC এর সাংবিধানিক রিজার্ভেশানের মূল অর্থ হচ্ছে –

প্রতিনিধিত্ব (representation)। যদিও এ প্রতিনিধিত্বের মূল ধারণাকে বদলে দিয়ে গতানুগতিক রিজার্ভেশনের সঙ্গে গুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে। যার ফলে এই প্রতিনিধিত্বকে সমাপ্ত করার জন্য  কৌশল করে আওয়াজ তোলা হচ্ছে আর্থিক ভিত্তিতে রিজার্ভেশন দেওয়ার দেওয়া হোক। এই  আওয়াজে বৈদিকবাদীরাতো আছেই সঙ্গে তাল মিলাচ্ছে কিছু দালাল। বাবা সাহেব বলেছিলেন,  আমি কাজ করার জন্য তীক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন লোক না পেলেও চলবে, সেটা আমি পূর্ণ করে নেব। আমি ইমানদার লোক চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাবা সাহেবের দেওয়া সুবিধার সুযোগ নিয়ে নিজের সমাজের জন্য ইমানদার না হয়ে, বৈদিকবাদীদের কাছে কিছু পাওয়ার আশায় সমাজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তাই বাবা সাহেবের স্বপ্ন অপূর্ণই রয়েগেল।  

সংবিধানের  15(4) & 16(4) ধারায় বাবাসাহেব বলেছেন- ১. Those who are adequately not represented. যাদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নেই। তারাই শুধুমাত্র রিজার্ভেশনের অধিকারী। যাদের কাছে ক্ষমতার সব কিছু আছে তারা সংরক্ষণ পাবেনা।     

     ২. বাবা সাহেব বলেছেন- Those who are the members of the scheduled caste scheduled tribe or socially and educationally back word classes. সামাজিক ও শিক্ষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে পিছিয়ে পড়া, অনু্সূচীত জাতি বা অনুসূচীত উপজাতির হলে এবং পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না পেলে এই শর্তের অধিকারীরা সংরক্ষণের সুবিধা পাবে। 

     অনেকেই বলেন সংরক্ষণ আর্থিক ভিত্তিতে হওয়া দরকার। কিন্তু রিজার্ভেশান আর্থিক  ভিত্তিতে গঠিত নয়। আর্থিক ভিত্তিতে ৪৬ ধারায় লেখা আছে যারা আর্থিক দৃষ্টিতে দুর্বল তাদের জন্য সরকারের উচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। (The State shall promote with special care the educational and economic interests of the weaker sections of the people)

     তাই বি.পি.এল. আর সংরক্ষণের কার্যক্রম একত্র নয়। দারিদ্র রেখার নিচের লোকদের জন্য  কার্যক্রম হওয়া দরকার। যার মধ্যে সব জাতির লোক থাকতে পারবেযেটা হচ্ছে দারিদ্র  নির্মূলনের কার্যক্রম। কিন্তু রিজার্ভেশন হচ্ছে প্রতিনিধিত্বের সামাজিক ন্যায়ের কার্যক্রম।  এদুটো  কখনো এক হতে পারেনা। দরিদ্রদের প্রতি ন্যায়ের জন্য সংবিধানে ৩৮, ৩৯, ৪১ ও ৪৬  ধারা আছে।  সংবিধানে এবিষয়ে বিস্তারিত বর্নণা আছে। দুটোকে একত্র করে উদ্দেশ্যকে বিপথগামী করার কাজ চলছে।  

     সুপ্রিম কোর্ট ১৬ নভেম্বর ১৯৯২ এর স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যেটা ৯ জন বিচারক (এম. এস. কানিয়া (প্রধান বিচারক), ভেঙ্কট চালাইয়া, এ এম আহমদি, বি.পি. জীবন রেড্ডি, এস. আর.  পান্ডিয়ান, পি. বি. সাবন্ত, পি. কে. থমন ও কুলদীপ সিংহ)  বিচারকের বেঞ্চ জানিয়েছেন যে, There must be a commission appointed by government or experts. চার মাসের মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে এই কমিশন অবশ্যই গঠন করতে হবে।

    ভোট আসার পূর্ব মূহর্ত থেকেই রিজার্ভেশন দেওয়ার নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রলোভোন দেওয়া হয়। যেটার কোনো বাস্তবতা থাকেনা। 15(4) & 16(4) ধারায় রিজার্ভেশন হচ্ছে এই মূল রিজার্ভেশনের অংশ। এটা কিছুতেই বদলানো সম্ভব নয়।  

     ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালে নরসিং রাও এর সময়ে আর্থিক ভিত্তিতে ১০% রিজার্ভেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। কিন্তু ১৬ নভেম্বর ১৯৯২ এ ইন্দ্রা স্বাহনী বনাম ভারত সরকার (Indira Sawhney &Ors v. Union of India.) এর কেসে সুপ্রিম কোর্ট সেটাকে নাকচ করে দেন এবং সেটাকে সংবিধান বিরোধী বলে ঘোষণা করেন।    

     কিন্তু তবুও কিছু লোক পুনরায় আর্থিক ভিত্তিতে রিজার্ভেশনের জন্য জোরালো দাবি করছে। তারা বলছে আর্থিক ভিত্তিতে রিজার্ভেশন দেওয়ার জন্য সংবিধান বলদ করো। কিন্তু তারা জানেনা বা জেনে না জানার ভান করে। সংবিধান বদলানো যায়কিন্তু মূল ধারাতে হাতও লাগানো যায়না।  সে ব্যবস্থা বাবাসাহেব সংবিধানে করে রেখেছেন। আর্থিকভাবে রিজার্ভেশনের কথা সেটা দারিদ্র   নির্মূল করণের বিষয়, আর রিজার্ভেশন হচ্ছে প্রতিনিধিত্বের বিষয়। এটা কিছুতে দারিদ্র নির্মূলকরণের কার্যক্রম নয়। তবুও  কিছু প্রতিক্রিয়াশীলরা বার বার আওয়াজ তুলছে গরিবদের  জন্য রিজার্ভেশ দেওয়া হোক।  

(তথ্য সংগ্রহ – Marathi speech of  Prof. Hari Narke. 54 Books Author, Professor, Researcher & Editor of Dr Babasaheb Ambedkar & Mahatma Phule's Books.)

                            _____________________

Read More

Sunday, 28 December 2025

// // Leave a Comment

মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল কেন দেশ ত্যাগ করে ভারতে গেলেন? লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়।

 


         মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল কেন দেশ ত্যাগ করে ভারতে গেলেন?

লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়  

     দেশভাগ তথা বাংলাভাগের সময় থেকে বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করার প্রয়োজন বলে মনে করি তিনি কেন দেশে থেকে গেলেন? কার নির্দেশে? নাকি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য? আবার তিনি দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্যইবা কেন হলেন? সেখানেই বা কী ঘটনা ঘটে ছিল?

    মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের জীবনটাই যেন বিতর্কিত তিনি আজীবন সমাজের পিছিয়ে রাখা মানুষদের জন্য নিজের জীবনের বিনিময়ে সব কিছু বিলিয়ে দিয়ে কাজ করেছেন চারবার মন্ত্রী হয়েও আপন সম্বল বলতে ফুটো কড়িও ছিল না কিন্তু সারা জীবন সমালোচকদের কুঠার আঘাতে জর্জরিত হয়েও নিজের সামাজিক কর্ম থেকে বিচ্যুত হননি আজও সেই সমালোচনা যেন থামতে চাইছে না এর কারণ কি তাঁকে নিয়ে সঠিক মূল্যায়নের অভাব?   

     আমার মনে হয়, তাঁর অদম্য সাহস গভীর মানব প্রেম তাঁকে তাঁর উদ্দেশ্যের শিখরে তুলে নিয়ে গেছে তবে এই বিতর্কের প্রধান কারণ হচ্ছে, তিনি কখনো কারো কাছে অন্যায়ভাবে মাথা নত করেননি এছাড়া তিনি এই কর্মের জন্য কখনো নিজের স্বার্থচরিতার্থ করার কথা ভাবেন নি ফলে প্রতিপক্ষরা কখনো তাঁকে কোনো দিক দিয়ে দুর্বল করতে না পেরে বাইরে থেকে মিথ্যা সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিতে চেষ্টা করেছে   

    কেন বলছি কথা কারণ, একজন হক্সাহেবের সঙ্গে মন্ত্রীসভা গঠন করেও তাঁর কোনো বদনাম হয় না যিনি পরবর্তিতে বলেছিলেন, ভারত ভাগ হোক না হোক, বাংলাভাগ চাই কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল সেই মন্ত্রী সভার দুর্নীতি তুলে ধরলে যখন বৃটিশ নেতৃত্ব সেই মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয় আর তারপরে হক্সাহেবের সঙ্গে (যোগেন্দ্রনাথ) মন্ত্রীসভা গঠন করেন, তখন তিনি হয়ে যান যোগেন আলী মোল্লা পূর্বে যিনি মন্ত্রীসভা গঠন করলেন তাঁর নাম কেন এরকম হবে না বা বাংলাভাগের জন্য তাঁকে কেন দায়ী করা হবে না?        

   এবার আসি ঘটনা প্রসঙ্গে

    দেশভাগ তথা বাংলাভাগ হওয়ার পর বাংলার নিরিহ অসহায় অমুসলমানদের দেখার জন্য কোনো নেতৃত্বকে তেমনভাবে চোখে পড়ে না যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলও দিশাহীন হয়ে পড়লেন তখন তিনি বাবাসাহেব আম্বেদকরের শরনাপন্ন হয়ে চিঠি লিখলেন কারণ, বাবাসাহেবকে তিনি রাজনৈতিক গুরু হিসাবে মেনে চলতেন তাই এই রকম পরিস্থিতিতে তাঁর কী করা উচিত সে বিষয়ে বাবাসাহেব একটা চিঠি লিখলেন ২রা জুন ১৯৪৭ যায় কয়েকটি লাইন এখানে তুলে ধরছি     

“The only course left to the Scheduled castes is to fight for safeguards either in United Bengal or a divided Bengal. ---- I agree that you should work in alliance with the League and secure adequate safeguards for them. ----The Muslim League, however, will be ready to give to the Scheduled Castes separate electorates more probably because they themselves want separate electorates for their own community. So far as the Eastern Bengal Scheduled Castes are concerned that no doubt is an advantage.” (তথ্য- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ, লেখক-জগদীশচন্দ্র মণ্ডল, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ -)

    বাবাসাহেবের পরামর্শ মতো তিনি ভারতে না গিয়ে আপন সমাজের দরিদ্র অসহায়দের স্বার্থে পূর্বপাকিস্তানে থেকে গেলেন দুঃখের বিষয় বাবাসাহেবের এই চিঠির বিষয়ে এখনো বেশিরভাগ মানুষ জানেন না বা জানলেও না জানার ভান করে কুৎসা রটাতে থাকেন    

    এরপর তিনি পূর্বপাকিস্তানের তপশিলি অন্যান্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের পরামর্শক্রমেই ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তানের মুসলিমলীগ মন্ত্রীসভায় আইন শ্রম মন্ত্রী হিসাবে যোগদান করেন

    মন্ত্রীসভায় যোগদান করে তিনি তপশিলিদের স্বার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তবে তাঁর এই মন্ত্রীসভায় যোগদানকে জিন্না, নাজিমুদ্দিন সুরাবর্দি ছাড়া অন্যরা ভালোভাবে মেনে নিতে পারছিলেন না বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকৎ আলি এখান থেকেই শুরু হয় যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলকে বিতাড়িত করার চিত্রনাট্য

     ১৯৪৭ সালের ১১ অক্টোবর যোগেন্দ্রনাথের “Minorities Have Every Right To State Protection”- এর ব্যাখ্যা তার আইন প্রণয়নকে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকৎ আলিকে আরো অসহিষ্ণু করে তোলে তবে জিন্নার জন্য প্রধানমন্ত্রী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছিলেন না যোগেন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে তপশিলিদের জন্য বিভিন্ন দাবি প্রধানমন্ত্রী পুরণ করছেন না দেখে যোগেন্দ্রনাথ জিন্নার শরণাপন্ন হন তিনি নির্বাচনে তপশিলি জাতির সংরক্ষণ নির্বাচনের প্রসঙ্গের সঙ্গে পূর্বপাকিস্তানের দুজন সংখ্যালঘু মন্ত্রীর দাবি করেন তবে জিন্না সে কথা মানতে রাজি হন না তখন দুজনের মধ্যে এরকম কথোপকথন হয়-

যোগেন্দ্রনাথ- আমাকে পদত্যাগ করতে দিন

ক্রুদ্ধস্বরে জিন্না- আপনি যদি মনে করেন যে, পদত্যাগের দ্বারা আরও ভালরূপে তপশিলি জাতির সেবা করিতে পারিবেন, তবে স্বচ্ছন্দে তাহা করিতে পারেন

   যোগেন্দ্রনাথও দমিবার পাত্র নহে তিনিও স্বর চড়াইয়া বলেন- আরও ভালোরূপে সেবা করিবার প্রশ্ন নহে প্রশ্ন হইতেছে নীতি এবং সম্মানের যদি আমি দেখি যে আমার নীতি মর্যাদা বিপন্ন, তবে আমার পক্ষে একমাত্র সম্মানজনক পন্থা হইতেছে পদত্যাগ করা এবং ফিরিয়া গিয়ে আমার লোকদের সেবা করা (তথ্য- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৬২)  

     যোগেন্দ্রনাথের আপোষহীন দাবির লড়াইয়ের ফলে জিন্না ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় পৌঁছান তিনি ২১ মার্চ ঢাকার এক জনসমাবেশে প্রতিশ্রুতি দেন যে-

 “Any impartial observer will agree with me that throughout these troubles, the minorities were looked after and protected in Pakistan better than anywhere else in India. —We have made it clear that the Pakistan Government will not allow peace to be disturbed.” (Star of India, March 22, 1948)

     জিন্নার এই প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তথা অন্য কোনো লীগ মন্ত্রী মুসলমানরা ভালোভাবে নিতে পারেন নি এখান থেকেই শুরু হয় জিন্নার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কারণ, তিনি যতদিন থাকবেন ততদিন পাকিস্তানে ১০০% মুসলমান শাসন কায়েম করা সম্ভব নয় এর মাত্র কয়েক মাস পরেই ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জিন্না মারা যান যদিও বলা হয়, তিনি যক্ষায় মারা গিয়েছিলেন জিন্নার মৃত্যুর সাথে সাথে হিন্দু তপশিলিদের স্বার্থের দাবিরও মৃত্যু ঘণ্টা বেজে যায়  

   প্রধানমন্ত্রী লিয়াকৎ আলি তখন পাকিস্তানের সর্বময় কর্তা হয়ে ওঠেন তিনি পূর্ববঙ্গের প্রধানমন্ত্রী পদ (তখন কেবিনেট প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী বলা হত) থেকে নাজিমুদ্দিনকে সরিয়ে ইসলাম ধর্মের তাবেদার নুরুল আমিনকে প্রধানমন্ত্রী করেন

    সুরাবর্দিকেও (অভিবক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী) বন্দির মতো জীবন যাপন করতে হত তাঁকে লিয়াকৎ আলির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমতি নিয়ে চলাফেরা করতে হত (তথ্য- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ২১৮)  

  ১৯৫০ সালের মার্চ মাসে পূর্ববাংলার হিন্দুদের উপর রাষ্ট্রীয় মদতে মুসলমানেরা অত্যাচার শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পিত বক্তব্যে হিন্দুদের উপর অত্যাচার আরও বেড়ে যায়  

     এরকম পরিস্থিতিতে ১৯৫০ সালের ১৩ জুন যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল কলকাতায় ডাঃ বিধাচন্দ্র রায়ের সঙ্গে পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন- পূর্বপাকিস্তানে হিন্দুদের থাকা সম্ভব নয় এবং তাঁর নিজের পক্ষেও পাকিস্তানে থাকা নিরাপদ নয় কারণ, ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আদেশ দেন যে, “মি. মণ্ডলকে কোন সংবাদ পরিবেশনের পূর্বে তাঁহাকে দিয়ে তাহা অনুমোদন করাইতে হইবে” (The State men, June 13, 1950/ (তথ্য- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৫২)   

    এদিকে তপশিলি ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি মুকুন্দ বিহারী মল্লিকও পাকিস্তানী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দ্বারা নজরবন্দি তাঁরও কোনো বিবৃতি দেওয়া নিষিদ্ধ   

    এমতো অবস্থায় লিয়াকৎ আলি দ্বারিকনাথ বারুরীকে পূর্বপাকিস্তানের মন্ত্রী করেন মন্ত্রী হয়েই তিনি ভোলানাথ বিশ্বাস যৌথভাবে যোগেন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিলেন- কেন্দ্রীয়সভার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও মি. মণ্ডল তপশিলি সম্প্রদায়ের লোকদিগকে পূর্বপাকিস্তান ত্যাগ করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্ররোচিত করিয়াছেন দেশত্যাগ করার জন্য তপশিলি সম্প্রদায়ের লোক অবর্ণনীয় দুর্দশায় পতিত হইয়াছেন ইহার জন্য মি. মণ্ডল দায়ী (আজাদ, ২৪ জুলাই, ২৯৫০/ মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৫৭)

    রাষ্ট্রবিরোধী কার্য করিয়া এবং পাকিস্তানের প্রতি-অবিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়া মি. মণ্ডল পাকিস্তানের তপশিলি সম্প্রদায়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছেন, কাজেই তপশিলি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসাবে তিনি আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় সদস্য থাকিতে পারেন না” (তথ্য )

    আবার কিছু শিক্ষিত তপশিলি বুদ্ধিজীবী দাবি করেন, মি. মণ্ডল পাকিস্তানের তপশিলিদের দেশত্যাগে বাধা দান করে, নিজে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসেন (পৃঃ )

   দুই দিক থেকেই যোগেন্দ্রনাথকে দায়ী করা হয়েছে এটাই হচ্ছে তপশিলিদের যোগেন্দ্রনাথ সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানার বিষময় ফল

    যোগেন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে এতো ষড়যন্ত্র হওয়া সত্বেও তিনি হিন্দুদের বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী লিয়াকৎ আলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি যোগেন্দ্রনাথকে বলেন- “আপনি নাকি আপনার বক্তৃতায় মুসলমানগণকে ডাকাত, হত্যাকারী, গুণ্ডা দুর্বৃত্ত বলিয়া ভীষণ গালিগালাজ করিয়াছেন?”

    উত্তরে যোগেন্দ্রনাথ বলেন- যাহারা বিনা অপরাধে নির্বিচারে নরহত্যা করে, সম্পত্তি লুণ্ঠন করে, বাড়িঘর জ্বালাইয়া ছারখার করে এবং নারীধর্ষণ, নারীহরণ করে, তাহাদিগকে আর কি বলিয়া বর্ণনা করা যায়? কিন্তু আমি তো সেই সব মুসলমানের প্রশংসাও করিয়াছি যাহারা গৃহত্যাগী ভয়ার্ত হিন্দুগণকে আশ্রয় দিয়াছেন এবং নিরাপত্তা বিধানের চেষ্টা করিয়াছেন (মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৪৫)। সেইদিনই যোগেন্দ্রনাথ বুঝে গিয়েছিলেন পূর্ববাংলায় হিন্দুরা  পাকিস্তানী প্রশাসনের দ্বারা নিরাপত্তা পাবে না     

    ‘পূর্ববঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরে যোগেন্দ্রনাথ বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করিয়া যে দৃশ্য প্রত্যক্ষ করিয়াছেন এবং যে সব নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কাহিনী শ্রবণ করিয়াছেন তাহাতে তাঁহার মন বিষিয়ে যায় এই তাণ্ডবলীলার বিরুদ্ধে তিনি যে সকল জ্বালাময়ী বক্তৃতা বা প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেন তাহার ফলে পাকিস্তানে তাঁহার জীবন মান সম্মান বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রতিনিয়ত স্মরণ -পথে উদিত হইয়া তাঁহার মনকে এমনভাবে ব্যথিত করিয়া তুলিত যে তাঁহার আহার নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটে পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করিয়া তিনি বিচলিত হইয়া উঠিলেন তিনি পাকিস্তানে মন্ত্রী থাকিয়াও যখন হিন্দুদের নির্যাতন নিপীড়নের হাত হইতে রক্ষা করিতে অসমর্থ এবং পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের বিপদকালে সুদূর করাচী হইতে তিনি কোন সাহায্য করিতে তাহাদের মধ্যে উপস্থিত হইতে যখন অসক্ষম তখন তাঁহার পক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীপদে বহাল থাকা আদৌ সমীচীন কিনা এই চিন্তা দ্বন্দ তাঁহার মনকে ভারাক্রান্ত বিষন্ন করিয়া তুলিল তিনি আরও চিন্তা করিলেন যে, পাকিস্তানে মন্ত্রী থাকিলে তাঁহাকে সংখ্যালঘুদের পাকিস্তান ত্যাগ না করিতে অনুরোধ জানাইতে হয় কারণ, মন্ত্রী হিসাবে ইহা তাঁহার কর্তব্য কিন্তু তাঁহাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সম্বন্ধে তিনি কোন আশ্বাস দিতে পারিবেন না, অথচ তাঁহাদের পাকিস্তান ত্যাগ না করিতে অনুরোধ  জানাইতে হইবে- ইহা বিবেক সম্মতভাবে তিনি কিরূপে করিবেন, সেই চিন্তাও তাঁহাকে উদ্বিগ্ন করিয়া তুলিল তিনি উপলব্ধি করিলেন যে, দায়িত্ব বহন করা তাঁহার পক্ষে যুক্তিযুক্ত হইবে না সুতরাং তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলেন যে, পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ভবিষ্যৎ যে অন্ধকারাচ্ছন্ন এই কথা বলিয়া তিনি পদত্যাগ করিবেন’ (তথ্য-মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ, লেখক- জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৬৮)

     যোগেন্দ্রনাথ এককথায় পাকিস্তানে নজরবন্দি পাকিস্তান সরকার যে কোনো অজুহাতে তাঁকে গৃহবন্দি করার চেষ্টা করছে এরকম সময় ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মুরীতে জুডিশিয়াল সাব কমিটির সভায় তাঁর সভাপতিত্ব করার কথা বলা হয় সভায় রওয়ানা হবার একদিন আগে কলকাতায় পাঠ্যরত পুত্র জগদীশ মণ্ডলের অসুখের খবর পান তখন তিনি সেই কর্মসূচী বাতিল করে কলকাতায় চলে আসেন এদিকে যোগেন্দ্রনাথের দপ্তর থেকে করাচী হয়ে ফেরার জন্য টেলিগ্রাম আসে কিন্তু তাঁর দেহরক্ষীর দেওয়া গোপন তথ্য নিজের প্রচেষ্টায় সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বুঝতে পারেন যে, করাচী ফিরলেই তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার কারণ দেখিয়ে বন্দি করা হতে পারে আর একবার বন্দি হলে জিন্নার মতো অস্বাভাবিক মৃত্যুও ঘটতে পারে তাই তিনি ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের সঙ্গে পরামর্শ করে পাকিস্তানে আর ফিরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন

     পরিশেষে শিক্ষক, লেখক দীলিপ গায়েন এর এক লাইভ সাক্ষাৎকারে মহাপ্রাণ সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়নকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি

 তিনি একজন মহান লিডার ছিলেন তাই তাঁকে পাঠ্য বই স্থান দেওয়া উচিত ছিল কিন্তু একটা গোষ্ঠী লাগাতার তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে চলেছে এবং ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিচ্ছে তাঁরা যদি ১৯শতকের বা ২০ শতকের গোড়ার দিকে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিচার করে ব্যাখ্যা দিতেন তাহলে হয়তো মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতো না তাঁর সম্পর্কে এই ভুল বার্তা দিয়ে এই আন্দোলনের জগৎ থেকে তাঁকে আলাদা করবার জন্য চিন্তাভাবনা নিয়েছে  

      তিনি এমন একজন নেতৃত্ব ছিলেন যে, তিনি না থাকলে আমরা আম্বেদকরকে পেতাম না তিনি একটা সাধারণ কৃষি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও আইনে সুদক্ষ ছিলেন, সমাজ দরদী ছিলেন ওকালতি করে তিনি সচ্ছল জীবনযাপন করতে পারতেন কিন্তু সেটা তিনি করেন নি তাঁর ব্যক্তিগত যোগ্যতা সম্পর্কে বলতে চাই-

)ভারতবর্ষে ততকালীন সময়ে যত তপশিলি নেতৃত্ব ছিলেন তাদের সঙ্গে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল

) বৃটিশ শাসকদের উপর তলায় যে শাসকরা ছিল, তাদের সঙ্গে যোগেন মণ্ডলের সম্পর্ক ছিল বা তাদের সঙ্গে তিনি কথা বলার যোগ্যতা রাখতেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতেন

) ব্রহ্মণ্য শ্রেণি বা স্ববর্ণদের নেহেরু, সুভাষচন্দ্র বসু, শরতচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে উপর লেবেলের ব্রাহ্মণ্য শ্রেণির যে নেতৃত্ব ছিল তাদের সঙ্গে যোগেন মণ্ডলের লড়াই করার ক্ষমতা ছিল বা তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলার সাহস রাখতেন (উদাহরণ হিসাবে – ১৯৬৫ সালে তিনি কোনো পদে না থেকেও ততকালীন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে বলে ‘নকুড়’ কমিটির সুপারিশ রদ করান)। 

) সেই সময়ে মুসলিম সমাজের যে নেতৃত্ব ছিল, তাদের সঙ্গেও তিনি কথা বলার যোগ্যতা রাখতেন সাহস রাখতেন  

যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের মূল্যায়ন বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে একান্ত আবশ্যক তাতে বিশেষ করে পিছিয়ে রাখা সমাজের প্রগতি হবে তাঁর জীবন কর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার 

                       ------------------------------------

 

 

 

 

 

 

    

  

 




 


    

  


Read More