Tuesday, 30 April 2024

// // Leave a Comment

*মে দিবস। বাবাসাহেব আম্বেদকর ও শ্রম আইন * লেখক -জগদীশচন্দ্র রায়


 *মে দিবস। বাবাসাহেব আম্বেদকর ও শ্রম আইন *

লেখক -জগদীশচন্দ্র রায়

বাবা সাহেব আম্বেদকর একজন সূর্য। সেই সূর্যকে পূর্ণ প্রকাশের জন্য ব্রাহ্মণ্যবাদী ঘনকালো মেঘকে সরিয়ে তাঁকে সংবিধান সভায় প্রেরণ করেন বাংলার ‘আম্বেদকর’ মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল। যার অক্লান্ত সংগ্রামের ফলে এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়। যদিও বাংলার মানুষ এই মহান মহামানবদ্বয়ের সংগ্রামের ফসল ‘সংরক্ষণ- representation’ কে তো ভোগ করছে, কিন্তু যাঁদের জন্য এই মহার্ঘ তাঁদের আজও আপন করে নিতে পারেনি।

অবদানঃ- ড. আম্বেদকরের ভারতের বিকাশের ক্ষেত্রে যতোটা যোগদান আছে হয়তো অন্য কোনো রাজনেতার সেটা নেই। তিনি ছিলেন অর্থতজ্ঞ, সমাজতজ্ঞ, আইন বিশারদ। তিনি আধুনিক ভারতের নির্মাতা। তিনি সংবিধান রচনা সমিতির অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি এমন সংবিধান রচনা করেছেন, যেখানে সকল নাগরিক সমান অধিকারী, ধর্মনিরপেক্ষ। বাস্তবে তিনি স্বাধীন ভারতের ডি.এন.এ. রচনা করেছিলেন সংবিধানের মাধ্যমে। তাঁর প্রেরণায় Finance Commission এর নির্মাণ করা হয়। তিনি Reserve Bank of India এর নির্মাতা। দামোদর ভ্যালী, হিরাকুণ্ড পরিকল্পনাও তাঁর ভাবনার প্রকাশ। Employment Excenge এর স্থাপনাও বাবা সাহবে করেন। জল ও বিদ্যুৎ এর Gird System এর স্থাপন তিনি করেন। স্বতন্ত্র নির্বাচন আয়োগের নির্মাতা বাবা সাহেব। যদিও এই সব অবদানের কথা ভারতের কোনো সরকারই সরাসরি স্বীকার করে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দেয়নি। অর্থাৎ এইসব পরিকল্পনা ও বিচার আম্বেদকরের ছিল কিন্তু সেটার শ্রেয় অন্যে লুটে নিয়েছে।

নারী ও শ্রমিকদের সুবিধাঃ- বাবা সাহবে হিন্দুকোড বিল বানিয়েছিলেন (যদিও হিন্দুকোড বিলের খসড়া মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল বানিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন মন্ত্রী থাকাকালীন) নারীদের সমমর্যাদার অধিকার দেওয়ার জন্য। পিতার সম্পত্তিতে কন্যার সমান অধিকার, বিবাহিত পুরুষ এক স্ত্রী বর্তমান থাকতে অন্য স্ত্রীকে গ্রহণ করতে পারবেনা। যদিও তখনকার সরকার সেটার মান্যতা দেয়নি। পরবর্তীতে সেটা চালু করা হয়। মহিলাদের মাতৃত্বকালী ছুটি, এবং প্রতিদিন আট ঘন্টা কাজের সময় নির্ধারণ বাবা সাহেবের অবদান। তিনি যখন শ্রমসচিব (মন্ত্রী) তখন
(১)কয়লা শ্রমিকদের নানা ধরনের সহায়তা প্রদান,
(২) মহিলা শ্রমিকদের প্রসবকালীন ৩২৯দিন ছুটি,
(৩) কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্র,
(৪) ৮ ঘণ্টা কাজের আইনী স্বীকৃতি,
(৫) ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার সম্প্রসারণ,
(৬) ন্যূনতম বেতন —সহ নানা শ্রমিক কল্যাণ আইন পাস ও কার্যকর করেন।
আর এই আইনগত সুবিধাগুলো কিন্তু জাত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য ছিল। যদিও এক শ্রেণির সুবিধাভোগীরা শুধু ভোগ করছে আর কারণ অকারণে জেনে বা না বুঝে বাবাসাহেবের বদনাম করছে।





0 comments:

Post a Comment