দেবতা আছে কি? আত্মা আছে কি? এই বিষয় নিয়ে বুদ্ধ ও এক ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথোন। (মারাঠি ভাষ্যকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে)
तथागत बुद्धांना
एकदा एका मनुष्याने विचारलं देव आहे कि नाही? आत्मा नाही। पुनर्जन्म नाही।स्वर्ग नाही। नर्क नाही। तुम्ही असं कसंकाय म्हणता?
তথাগত বুদ্ধকে একজন প্রশ্ন করলেন যে, আপনি বলেন যে, দেবতা নেই, আত্মা নেই, স্বর্গ
নেই, নরক নেই। আপনি এসব কথা কি করে বলেন?
এ
সব বিষয়ে তথাগত বললেন, আমি শুধু বাস্তব সত্য কী সে বিষয় সম্পর্কে মানুষদের জানানোর
কাজ করি।
তখন
সেই ব্যক্তি বললেন, আমি সঠিক বুঝলাম না। আমাকে আপনি এ বিষয়ে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে
বলবেন কি?
তথাগত বললেন মানুষের বাহ্যিক পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়
আছে। যার মাধ্যমে মানুষ সত্যকে জানতে পারে। চোখ, কান, নাক জিভ ও তক। এগুলোর মাধ্যমে
মানুষ জ্ঞান অর্জন করে। মানুষ চোখ দিয়ে দেখে, কান দিয়ে শব্দ শোনে, নাক দিয়ে শ্বাস নেয়
ও গন্ধ অনুভব করে, তক দিয়ে স্পর্শ অনুভব করে আর জিহ্বা দিয়ে স্বাদ অনুভব করে। একে পঞ্চ
জ্ঞানেন্দ্রিয় বলে। এর মধ্য থেকে ২টো বা ৩টে জ্ঞানেন্দ্রিয়র মাধ্যেমে মানুষ সত্যকে
জানতে পারে। কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করে। যেমন জলকে আমরা চোখে দেখতে
পাই। কিন্তু সেই জল ঠাণ্ডা নাকি গরম সেটা বোঝার জন্য তকের প্রয়োজন। এটা মিষ্টি নাকি
লবনাক্ত সেটা বোঝার জন্য জিহ্বার প্রয়োজন।
তখন সেই ব্যক্তি বললেন এসব তো ঠিক আছে। কিন্তু
এই সবকিছুর সঙ্গে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের কী সম্পর্ক?
তথাগত বললেন, হাওয়া দেখা যায় না। কিন্ত তার
অস্তিত্বকে অস্বীকার করা যায় না। কারন, হাওয়ার অস্তিত্ব আমরা অনুভব করতে পারি। আমরা
যখন শ্বাস গ্রহণ করি, তখন বাতাস গ্রহণ করি। আমরা স্বাস গ্রহন করলে ও বাইরে ছেড়ে দিলে
বাতাস অনুভব করি। তারপর তথাগত বললেন, এবার বলো, আমরা যেমন বাতাস অনুভব করি, একইভাবে,
ঈশ্বরকে আমরা এই ৫টি ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করতে পারি কি?
লোকটি ভাবনায় পড়লেন।
তথাগত বললেন, তুমি কি সত্যিই ঈশ্বরকে দেখেছো?
লোকটি বলল, না।
তোমার বাবা, ঠাকুরদা, বা তাদের বাবা, ঠাকুরদা
ঈশ্বরকে দেখেছে কি?
তখন লোকটি বলল, না।
তখন তথাগত বললেন, যখন তুমি দেখোনি, তোমার
পূর্বপুরুষেরা কখনো দেবতাকে দেখেনি, তুমি তোমার ৫টি ইন্দ্রিয় দিয়ে কখনো অনুভব করোনি,
তাহলে তুমি কিভাবে বলতে পারো যে ঈশ্বর আছে?
এই বিচারধারা তথাগত বুদ্ধের ছিল, তাই না?
তখন সেই ব্যক্তিকে এই যুক্তির সঙ্গে কিছুটা
একমত বলে মনে হচ্ছিল। তবে সেই ব্যক্তি এতেই সন্তুষ্ট হতে পারেন নি। তিনি বুদ্ধকে আবার
প্রশ্ন করলেন- তথাগত বাকি সব ঠিক আছে, কিন্তু আমরা জীবিত, এটা সত্য যে আত্মা আছে, তাই
না?
তখন তথাগত সেই ব্যাক্তিকে বললেন, তুমি বলছো
যে আত্মা আছে এবং তার কখনও মৃত্যু হয় না, তাই না?
সেই ব্যাক্তি বললেন, হ্যা, ঠিক বলেছেন।
তখন তথাগত বললেন, আমাকে বলো, কোনো একজন মানুষ
মারা গেলে তার ঠিক কী অর্থ বোঝায়?
লোকটি বলল যে, আত্মা মানুষকে ছেড়ে চলে যাওয়ার
অর্থ মানুষের মৃত্যু।
বুদ্ধ বললেন, তাহলে আমাকে বলো, আত্মা শরীর
ত্যাগ করে, নাকি শরীর আত্মা ত্যাগ করে?
তখন সেই ব্যক্তি বলল, কখনো আত্মা শরীকে ত্যাগ
করে। কেউ না কেউ তো অন্যকে ছেড়ে যায়।
বুদ্ধ বললেন, কেন ছেড়ে যায়? বেঁচে থাকার অনিচ্ছার
জন্য কি?
তখন সেই ব্যক্তি বলল, না। মানুষের জীবন শেষ
প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য।
এ প্রসঙ্গে তথাগত বললেন, যদি তাই হতো তাহলে
সকল মানুষ ১০০ বছর বেঁচে থাকতে পারতো না। কেউ কেউ এভাবে মরতে পারত। অসুস্থ্যতার কারণে
হোক বা যেকোনো কারণেই হোক।
তখন সেই ব্যক্তি বলল, তথাগত আপনি ঠিক বলেছেন।
কিন্তু মানুষের মধ্যে যে আত্মা আছে তাকে আপনি কী বলবেন?
তথাগত বললেন, যখন তুমি প্রদীপ জ্বালাও তখন
সেই প্রদীপে তেল থাকে, তেলে একটা সলতে থাকে; তুমি সেই প্রদীপ জ্বালানোর জন্য আগুন দেও।
তারপর তুমি প্রদীপ জ্বালাও। তাইনা? এবার বলো, এই প্রদীপটা কখন নিভে যায়?
তখন সেই ব্যক্তি বলল, তেল শেষ হয়ে গেলে প্রদীপ
নিভে যায়। আবার কখনো তেল থাকলেও প্রদীপটি নিভিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
তথাগত বললেন, এ ছাড়াও প্রদীপ কখন কখন নিভে
যেতে পারে?
সেই ব্যক্তি কোনো উত্তর দিতে পারলো না।
তখন তথাগত বললেন, একটা জোরে হাওয়া এসেও প্রদীপটা
নিভিয়ে দিতে পারে। এবার তোমার শরীরকে সেই প্রদীপের মতো মনে করো। আর জীবনকে সেই আগুন
মনে করো। বুদ্ধ আরো বললেন, জীবের দেহ চারটি (তত্ব) নিতির সমন্বয়ে গঠিত। পৃথিবী, জল,
বায়ু, ও আলো (তেজ বা সুর্য)। পৃথিবী একটা কঠিন পদার্থ। অর্থাৎ মাটি। জল একটি তরল পদার্থ।
তেজ হচ্ছে শক্তি, উষ্ণতা। বায়ু হচ্ছে বাতাস। এই চারটি পদার্থ থেকে যখন একটি আলাদা হয়ে
যায়, তখন মানুষের মৃত্যু হয়।
শক্তি তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ মারা
যায়। আগে বুদ্ধ বললেন, আত্মা আছে কী নেই, আমি এসব নিয়ে ভাবি না। ‘ধম্ম’ এই নির্থক বিষয়গুলো
নিয়ে সময় নষ্ট করে না। একজন মানুষের জন্মগ্রহণ থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত সে কিভাবে
কাজ করে, তার কর্তব্য পালন করে, ‘ধম্ম’ এই বিষয়ের উপর বিচার করে। কোন কাজ করার পর কী
পরিণাম হবে সে বিষয়ে ‘ধম্ম’ বিচার করে। একজন মানুষ জীবিত অবস্থায় কিভাবে স্বর্গ উপলব্ধি
করতে পারে সে বিষয়ে ‘ধম্ম’ আমাদের শিক্ষা দেয়। আর জীবিত অবস্থায় একজন মানুষকে অজ্ঞতার
জন্য নরক যন্ত্রনা যাতে পেতে না হয়, সে বিষয়েও ‘ধম্ম’ শিক্ষা দেয়। ‘ধম্ম’ অর্থ অন্ধকার
থেকে আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই সকল কথা ঈশ্বর এবং আত্মা সম্পর্কে বুদ্ধ সেই ব্যক্তিকে
বললেন।
এই আলোচনা সম্পর্কে পাঠক আপনার মতামত জানান।

0 comments:
Post a Comment