Sunday, 4 October 2026

// // Leave a Comment

কবিতা *মহাপ্রাণ* জগদীশচন্দ্র রায় (মুম্বাই)

 


মহাপ্রাণ

জগদীশচন্দ্র রায় (মুম্বাই)

মহৎ প্রাণ, মহাপ্রাণ।

তুমি জীবনের প্রারম্ভে শুরু করেছ সংগ্রাম

দারিদ্রতার বিরুদ্ধে।

স্কুল জীবনে তোমাকে গালি খেতে হয়েছে

নীচু জাত বলে।

তবুতো তুমি থেমে যাওনি

দারিদ্রতা ও বর্ণবৈষম্যের শৃঙ্খলে।

তোমার উদারতা অসহায়কে দিয়েছে

নিরাপদ আশ্রয়।

তোমার সংগ্রামী নেতৃত্ব,

‘মুক’ এর মুখে ফুটিয়েছে ভাষা,

নিপীড়িতকে দিয়েছে ভরসা।

তাইতো তারা তোমাকে করেছে বিজয়ী

কঠোর সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে।

তুমিও রেখেছ তাদের যোগ্য সম্মান

সংবিধান সভায় বাবা সাহেবকে পাঠিয়ে।

সংবিধান দিয়েছে অধিকার

শিক্ষা, চাকরী ও রাজনীতিতে।

 তুমি চেয়েছিলে সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতার বাণীকে

পৌঁছে দিতে ঘরে ঘরে।

কিন্তু হায়,

সুবিধা ভোগীরা শুধু সুযোগটাকেই

কাজে লাগাল নিজের স্বার্থে।

তোমার সংগ্রামকে ভুলে গিয়ে

ব্রাহ্মণ্যবাদী কৌশলে ফেঁসে গিয়ে

তারা উপকারিকে বানাল ভিলেন।  

দেশভাগের যেখানে তোমার হাত ছিলনা,

সেকথা কেউ মানতে চাইল না।

না জেনে তারা তোমার নামে

প্রচার করে ক্লেম।

 

তোমার উদ্দাত্ত আহবান-

“চার বার মন্ত্রী হয়েও করিনি কোন

সম্পদ আহরণ।”

বঞ্চিতের মুক্তির সর্তে তুমি

 দিতে চাইলে জলন্ত অগ্নিকুন্ডে ঝাঁপ

তবুও সেকথা বুঝে কেউ করলা তোমাকে মাফ।

 

তোমাকে কৌশলে মারল যারা

তাদেরকে সবাই ভুলে গেছে।

তোমার কর্ম  ইতিহাসের পাতায়

ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে।

 

তাই, দুঃখ নয় বন্ধু।

এটাই হয়তঃ বর্তমান শিক্ষার রীতি।

তোমার আসল খবর যেদিন তারা বুঝবে,

সেদিন সকলে করবে তোমাকে প্রীতি।

 

তোমার সংগ্রামী জীবন আমাদের প্রেরণা।

তোমার কর্ম আমাদের কুশলতা।

তোমার আদর্শ আমাদের উদ্দেশ্য

তোমার সংগ্রাম আমাদের সংগ্রাম।

 অশিক্ষা, কুটনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম।

তাই তোমার সংগ্রামকে স্মরণ করে

তোমাকে জানাই প্রনাম।

জয় মহাপ্রাণ, জয় মহাপ্রাণ।

________________________   

 

 

 

0 comments:

Post a Comment