কুঠারের হাতল ও সমাজ ব্যবস্থা
কোনো সমাজ দেশ সংগঠন পরিবার ইত্যাদি যাকেই ধ্বংস করতে হলে প্রয়োজন তার অন্তর্নিহীত কোনো সোর্সকে। এটা একটা চিরন্তন প্রথা ও সত্য বলে মনে করি। আমদের সামনে কিছু ধরলে আমরা গদ গদ হয়ে যাই। পরে বাশটাও আমরা খাই। তাই এর থেকে নিজেদের কিছু শেখা দরকার। না হলে বারবার এরকম হবে।
ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থা যখনই দেখাবে পিছিয়ে রাখারদের উন্নয়নের জন্য তার সমাজের প্রতিনিধি সে নির্বাচন করবে তখনই বুঝতে হবে কুঠারের হাতলটির কথা। কারণ, এটা ইতিহাসের প্রমাণ্য সত্য।
বাবাসাহেব আম্বেদকরের জাতিপ্রথার বিলুপ্তি/ Annihilation of Caste -এ এ বিষয়ে দেখতে পাই-
“ কোন দেশের সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎ সেই দেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণির উপর নির্ভর করে। যদি বুদ্ধিজীবী শ্রেণি সৎ, স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ হন, তাহলে সংকটকালে সেই বুদ্ধিজীবী শ্রেণির নেতৃত্বের উপর আস্থা স্থাপন করা যায়।
একথা সত্যি যে, বুদ্ধি বা মেধা কোন গুণ নয়, এটা একটি শক্তি বা সাধন। আর সাধনের প্রয়োগ সেই লক্ষ্যের উপর নির্ভর করে, যাকে প্রাপ্ত করার জন্য একজন ব্যক্তি চেষ্টা করে। বুদ্ধিমান ব্যক্তি সৎও হতে পারেন, আবার বদমাশ বা দুষ্ট প্রকৃতিরও হতে পারেন। সেই রূপ বুদ্ধিজীবী শ্রেণি উচ্চ বিচার যুক্ত ব্যক্তিদের একটা দল হতে পারেনে। যাঁরা সাহায্যের জন্য প্রস্তুত থাকেন। আর পথভ্রষ্ট লোকদের সঠিক রাস্তায় আনার জন্য প্রস্তুত থাকেন।
আবার বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ধোকাবাজের দলেও পরিণত হতে পারেন। সংকীর্ণ স্বার্থসিদ্ধির জন্য ছোট দলেরও সমর্থক হতে পারেন। বড়ই দুঃখের বিষয় এইযে, ভারতবর্ষে বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ব্রাহ্মণ জাতির উপকার ও চাওয়া পাওয়ার সঙ্গে আপোষ করে।”

0 comments:
Post a Comment