যোগেন্দ্রনাথ তফসিলীদের নানারকম সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নেবার জন্যই মুসলিম মন্ত্রীসভায় যোগদান করেন। লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস
যোগেন্দ্রনাথ তফসিলীদের নানারকম সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নেবার জন্যই প্রথমে নাজিমউদ্দিন মন্ত্রীসভায় ও পরে সোহরাওয়ানি মন্ত্রীসভায় যোগদান করেছিলেন, যার সুফল আজও তফসিলী ছাত্র-ছাত্রীরা, চাকুরিজীবিরা ভোগ করছেন।" যোগেন্দ্রনাথ মুসলিম লীগ মন্ত্রীসভায় যোগদান করার সুবাদেই সোহরাওয়ার্দি সাহাবুদ্দিনদের সহায়তা লাভ করেছিলেন কংগ্রেসের বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে ডঃ আম্বেদকরকে বাংলা থেকে গণ পরিষদের নির্বাচনে জিতিয়ে দিতে। সে নেপথ্য কাহিনী জেনে নেবার প্রয়োজন আছে। কিন্তু তাই বলে একথা মনে করার কোন কারণ নেই যে, যোগেন্দ্রনাথ মুসলিম লীগের হয়ে গিয়েছিলেন। আমরা যদি রাজনীতিকে অধিকার আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখি, তাহলে যোগেন্দ্রনাথের মুসলিম লীগের কিংবা মুসলমানদের সঙ্গে জোটবাধায় দোষের কিছু দেখতে পাবো না। তাছাড়া যোগেন্দ্রনাথের আগে ও তাঁর সংগে আরও অনেক বর্ণ হিন্দু প্রতিনিধিই তো মুসলিম মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন, যেমন- নলিনী রঞ্জন সরকার, শ্রীশচন্দ্র নন্দী, বিজয় প্রসাদ সিংহরায় (১ম হক মন্ত্রীসভা), ডঃ শ্যামাপ্রাসাদ মুখার্জী, সন্তোষ কুমার বসু, প্রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (২য় হক মন্ত্রিসভা); তুলসীচরণ গোস্বামী, বরদা প্রসন্ন পাইন, তারকনাথ মুখার্জী (নাজিমউদ্দিন মন্ত্রিসভা)। তাঁদের বেলায় দোষ হলো না, যত দোষ হলো যোগেন্দ্রনাথের বেলায়? যোগেন্দ্রনাথ মুসলিম লীগের কিংবা পাকিস্তান আন্দোলনের সপক্ষে কোনদিনই কোন প্রচার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন নি। (তথ্য- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস, পৃষ্ঠা ২২৯)

0 comments:
Post a Comment