Saturday, 31 January 2026

// // Leave a Comment

পাকিস্তান সৃষ্টি সম্পর্কে যোগেন্দ্রনাথের অভিমত। (তাঁর পদত্যাগ পত্র থেকে তুলে দিলে দিলাম)

 


পাকিস্তান সৃষ্টি সম্পর্কে যোগেন্দ্রনাথের অভিমত। (তাঁর পদত্যাগ পত্র থেকে তুলে দিলে দিলাম)

     For the sake of truth I must admit that I had always considered the demand Pakistan by the Muslim League as a bargaining counter. Although I honestly felt that in the context of India as a whole Muslims had legitimate cause for grievance against upper class Hindu chauvinism, I held the view very strongly indeed that the creation of Pakistan would never solve the communal problem. On the contrary, it would aggravate communal hatred and bitterness. Besides, I maintained that it would not ameliorate the condition of Muslims in Pakistan. The inevitable result of the partition of the country would be to prolong, if not perpetuate, the poverty, illiteracy and miserable condition of the toiling masses of both the States.

সত্যের খাতিরে আমাকে স্বীকার করতেই হবে যে, মুসলিম লীগের পাকিস্তান দাবিকে আমি সবসময়ই দর কষাকষির একটি কৌশল হিসেবে বিবেচনা করতাম। যদিও আমি আন্তরিকভাবে অনুভব করতাম যে, সমগ্র ভারতের প্রেক্ষাপটে উচ্চবিত্ত হিন্দুদের উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের অভিযোগের যথেষ্ট কারণ ছিল, তবুও আমি দৃঢ়ভাবে এই মত পোষণ করতাম যে, পাকিস্তান সৃষ্টি কখনোই সাম্প্রদায়িক সমস্যার সমাধান করবে না। বরং, এটি সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও তিক্ততাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এছাড়াও, আমি মনে করতাম যে এটি পাকিস্তানে মুসলমানদের অবস্থার কোনো উন্নতি ঘটাবে না। দেশভাগের অনিবার্য ফল হবে উভয় রাষ্ট্রের শ্রমজীবী ​​জনসাধারণের দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা এবং দুর্দশাকে দীর্ঘায়িত করা, এমনকি স্থায়ী করে তোলা

মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের পদত্যাগ পত্র

J-N-Mandal-Resignation-Letter

Read More

Friday, 30 January 2026

// // Leave a Comment

মন্ত্রীত্বের লোভে নয়, যোগেন্দ্রনাথ পাকিস্তানে থেকে গিয়েছিলেন দেশভাগের বলি তাঁর বিপন্ন আপনজনদের পাশে দাঁড়াতে ডঃ আম্বেদকরের নির্দেশে। লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস

 

মন্ত্রীত্বের লোভে নয়, যোগেন্দ্রনাথ পাকিস্তানে থেকে গিয়েছিলেন দেশভাগের বলি তাঁর বিপন্ন আপনজনদের পাশে দাঁড়াতে ডঃ আম্বেদকরের নির্দেশে। লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস

মন্ত্রীত্বের লোভে নয়, যোগেন্দ্রনাথ পাকিস্তানে থেকে গিয়েছিলেন দেশভাগের বলি তাঁর বিপন্ন আপনজনদের পাশে দাঁড়াতে। যোগেন্দ্রনাথ যে সঠিক কাজটি করেছিলেন তার প্রমাণ মেলে যখন আমরা কোলকাতার ঘর-বাড়ি ফেলে দিয়ে ও রমরমা আইন ব্যবসায় ছেড়ে দিয়ে মুকুন্দ বিহারী মল্লিককে ঢাকায় চলে যেতে দেখি। দেখি বসন্তকুমার দাস, অক্ষয়কুমার দাস, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, কামিনী কুমার দত্ত, শ্রীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র মজুমদার, মনোরঞ্জন ধর প্রমুখ কংগ্রেস নেতাদের পাকিস্তানে থেকে যেতে। অনুরূপ ভাবে শহীদ সোহরাওয়ার্দিও এপার বাংলার বিপন্ন মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতে পাকিস্তান হাসিল হওয়ার পরেও প্রায় দু’বছর এদেশে থেকে গিয়েছিলেন।৪৫ তাছাড়া যোগেন্দ্রনাথের পাকিস্তানে থেকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনে তাঁর রাজনৈতিক গুরু ডঃ বি.আর. আম্বেদকরের অনুমোদনও ছিল। ২.৬.১৯৪৭ তাং-এ এক গুরুত্বপূর্ণ গোপন চিঠিতে ডঃ আম্বেদকর যোগেন্দ্রনাথকে জানান: “The only course left to the Scheduled Castes is to fight for safeguards either in a United Bengal or a Divided Bengal. It is possible for the reasons you have mentioned that the Scheduled Castes in Eastern Bengal will elect to stay where they are even when partition comes,........... In the meantime I agree that you should work in alliance with the League and secure adequate safeguards for them......... The Muslim League, however, will be ready to give the Scheduled Castes separate electorate more probably because they themselves want separate electorate for their own com- munity. So far the Eastern Bengal Scheduled Castes are concerned, that no doubt, is an advantage.”৪৬ (তথ্য- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস, পৃষ্ঠা ২৩০)

Read More
// // Leave a Comment

যোগেন্দ্রনাথ বাংলাভাগের পক্ষে নয়, যুক্ত বাংলার পক্ষেই সংগ্রাম করেছিলেন। লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস

 যোগেন্দ্রনাথ বাংলাভাগের পক্ষে নয়, যুক্ত বাংলার পক্ষেই সংগ্রাম করেছিলেন। লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস



যোগেন্দ্রনাথ বাংলাভাগের পক্ষে নয়
, যুক্ত বাংলার পক্ষেই সংগ্রাম করেছিলেন। তাও করেছিলেন তাঁর আপনজনদের স্বার্থে।৪৩ বাংলা ভাগ হয়ে গেলে পূর্ব বাংলার মাটির সংগে যুক্ত এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল তফসিলীরা দেশত্যাগ করে হিন্দু ভারতে আশ্রয় নিতে পারবে না- এই ছিল তাঁর আশংকা। সেক্ষেত্রে বাংলা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য হলেও ৪৭% অমুসলিমদের নামমাত্র সংখ্যাগুরু মুসলিম সম্প্রদায়ের (৫৩%) সঙ্গে মিলেমিশে বাস করার সদিচ্ছার মধ্যে অবাস্তব চিন্তা-ভাবনার কোন লক্ষণই  নেই। যুক্ত বাংলার বা স্বাধীন বাংলার পরিকল্পনা ’৪৬-এর কোলকাতা দাঙ্গার জন্য ধিকৃত সোহরাওয়ার্দি সমর্থন করেছিলেন বলেই কি সেটা খারাপ ছিল? নেতাজীর অগ্রজ শরৎ বসুও তো স্বাধীন বাংলার পরিকল্পনা সমর্থন করেছিলেন। তিনি কি জন্য তা করেছিলেন? তিনি বিভাজিত বাংলায় যে মারোয়াড়ী আধিপত্য ও দিল্লীওয়ালাদের দৌরাত্ম্যের আশংকা করেছিলেন, তা কি আজ সত্যে পরিণত হয় নি?৪৪ আসলে বাংলা ভাগ হয়েছিলো ভারত ভাগের পরিপূরক (Sequel) হিসেবে এবং কংগ্রেস-লীগের ক্ষমতা ভাগাভাগির দরকষাকষির পরিণতি হিসেবে। এজন্য দায়ী যদি কেউ হয়ে থাকেন তো তাঁরা হচ্ছেন নেহেরু- প্যাটেল ও জিন্নাহ্-লিয়াকতেরা মরবার পূর্বে ক্ষমতার স্বাদ পাবার লোভে তাঁরা দেশভাগ করে নিলেন, এখানে যোগেন্দ্রনাথের কোন দায়ই নেই। তাছাড়া, ১৯৪৭ সালের ২০শে জুন বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভায় বাংলাভাগের প্রশ্নে যে ভোটাভুটি হয়েছিল তাতে তো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যোগেন্দ্রনাথের ভোটাধিকারই ছিল না তিনি দায়ী হলেন কোন যুক্তিতে? যত দোষ সব নন্দ ঘোষের? (তথ্য- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস পৃষ্ঠা ২২৯)


Read More
// // Leave a Comment

যোগেন্দ্রনাথ তফসিলীদের নানারকম সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নেবার জন্যই মুসলিম মন্ত্রীসভায় যোগদান করেন। লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস

 যোগেন্দ্রনাথ তফসিলীদের নানারকম সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নেবার জন্যই মুসলিম মন্ত্রীসভায় যোগদান করেন। লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস

 


    যোগেন্দ্রনাথ তফসিলীদের নানারকম সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নেবার জন্যই প্রথমে নাজিমউদ্দিন মন্ত্রীসভায় ও পরে সোহরাওয়ানি মন্ত্রীসভায় যোগদান করেছিলেন, যার সুফল আজও তফসিলী ছাত্র-ছাত্রীরা, চাকুরিজীবিরা ভোগ করছেন।" যোগেন্দ্রনাথ মুসলিম লীগ মন্ত্রীসভায় যোগদান করার সুবাদেই সোহরাওয়ার্দি সাহাবুদ্দিনদের সহায়তা লাভ করেছিলেন কংগ্রেসের বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে ডঃ আম্বেদকরকে বাংলা থেকে গণ পরিষদের নির্বাচনে জিতিয়ে দিতে। সে নেপথ্য কাহিনী জেনে নেবার প্রয়োজন আছে। কিন্তু তাই বলে একথা মনে করার কোন কারণ নেই যে, যোগেন্দ্রনাথ মুসলিম লীগের হয়ে গিয়েছিলেন। আমরা যদি রাজনীতিকে অধিকার আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখি, তাহলে যোগেন্দ্রনাথের মুসলিম লীগের কিংবা মুসলমানদের সঙ্গে জোটবাধায় দোষের কিছু দেখতে পাবো না। তাছাড়া যোগেন্দ্রনাথের আগে ও তাঁর সংগে আরও অনেক বর্ণ হিন্দু প্রতিনিধিই তো মুসলিম মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন, যেমন- নলিনী রঞ্জন সরকার, শ্রীশচন্দ্র নন্দী, বিজয় প্রসাদ সিংহরায় (১ম হক মন্ত্রীসভা), ডঃ শ্যামাপ্রাসাদ মুখার্জী, সন্তোষ কুমার বসু, প্রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (২য় হক মন্ত্রিসভা); তুলসীচরণ গোস্বামী, বরদা প্রসন্ন পাইন, তারকনাথ মুখার্জী (নাজিমউদ্দিন মন্ত্রিসভা)। তাঁদের বেলায় দোষ হলো না, যত দোষ হলো যোগেন্দ্রনাথের বেলায়? যোগেন্দ্রনাথ মুসলিম লীগের কিংবা পাকিস্তান আন্দোলনের সপক্ষে কোনদিনই কোন প্রচার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন নি। (তথ্য- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস, পৃষ্ঠা ২২৯)

Read More
// // Leave a Comment

যোগেন্দ্রনাথ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শুধুমাত্র তফসিলীদের নয়, সমস্ত সংখ্যালঘুদেরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন।লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস

 যোগেন্দ্রনাথ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শুধুমাত্র তফসিলীদের নয়, সমস্ত সংখ্যালঘুদেরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন।লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস


যোগেন্দ্রনাথ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শুধুমাত্র তফসিলীদের নয়
, সমস্ত সংখ্যালঘুদেরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে গেছেন।৩৮ ‘৫০-এর দাঙ্গা-বিধ্বস্ত পূর্ববঙ্গে সরকারী বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা না করে এবং নিজের ভবিষ্যতের কথা মাথায় না এনে তিনি যেভাবে ঝটিকা সফর করে বিপন্ন সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের মনে সাহস-বল জুগিয়েছেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন- এক কথায় তা অনবদ্য। তাঁর ত্বরিৎ হস্তক্ষেপের ফলে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সেই ঘোরতর দুর্দিনে অনেক বিপন্ন পরিবার উদ্ধার হয়েছে, অনেকের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। এ ব্যাপারে অধ্যাপক সমর গুহের স্পষ্ট স্বীকৃতি উল্লেখের দাবি রাখেঃ “১৯৫০ সালের ঢাকা দাঙ্গায় যোগেনবাবুর জন্য আমার প্রাণ রক্ষা হয়েছে- সেকথা আজও আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করি।”৩৯  (তথ্য- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস, পৃষ্ঠা ২২৮ )

Read More

Sunday, 25 January 2026

// // Leave a Comment

আমরা কি এই ইতিহাস জানি বা মানি? (সংবিধান, আম্বেদকর ও যোগেন্দ্রনাথ) লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়

 



আমরা কি এই ইতিহাস জানি বা মানি? (সংবিধান, আম্বেদকর ও যোগেন্দ্রনাথ)

লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়

     ২৬ শে জানুয়ারী গণতন্ত্র দিবস। এই দিন ভারতের সংবিধান লাগু হয়। এই সংবিধান লেখেন ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে বাবাসাহেব যদি সংবিধান সভায় যেতে না পারতেন তাহলে তিনি এই সুযোগ পেতেন না। বাবাসাহেবের সংবিধান সভায় যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তখন তপশিলি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সারা ভারতে শুধুমাত্র মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। সংবিধান সভায় প্রবেশের জন্য কমপক্ষে পাঁচটি ভোটে (পাঁচ জন এম এল এ)-র প্রয়োজন। এদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বাবাসাহেব যাতে সংবিধান সভায় যেতে না পারেন তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করে রেখেছে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ঘোষণা করেছেন, ‘সংবিধান সভার দরজা তো দূর, ভেন্টিলেটরও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আম্বেদকর যাতে সংবিধান সভায় প্রবেশ করতে না পারেন সে জন্য।

     মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথকে বাংলার আম্বেদকর বলা হয়। তিনি বাবাসাহেবকে রাজনৈতিক গুরু মনে করতেন। তাই তিনি বলেছিলেন, ‘ফেডারেশনে যোগ দেওয়ার আগে আমি ডঃ আম্বেদকরকে দেখেছিলাম, আমি তাঁর কাছ থেকে যা আশা করেছিলাম এবং আমি আজও বলছি, তাঁর কাছ থেকে আমি যা পেয়েছি তা এতটাই মূল্যবান যে সারা বিশ্বও আমাকে তা দিতে পারবে না। Before I joined the Federation I saw Dr. Ambedkar, what I expected from him was and still I say what I got from him has been so precious that the entire world cannot give it to me. (26শে ডিসেম্বর 1946-/(মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল, লেখক- জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০০)

    মহাপ্রাণ প্রতিজ্ঞা করলেন বাবাসাহেবকে সংবিধান সভায় পাঠাতে হবে। যেটা এক অকল্পনীয় ঘটনা। বাংলার তপশিলিরা মহাপ্রাণের নেতৃত্বে সেদিন দেখিয়ে দিয়ে ছিল অসাধ্যকে কিভাবে সাধ্য করতে হয়। যে ঘটনাকে কর্নেল সিদ্ধার্থ বার্ভে বলেছেন, ‘এটা বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য’ ঘটনা।

    বাবাসাহেব সংবিধান সভার জন্য নির্বাচিত হলেও দেখা গেল কংগ্রেস তাদের কূটকৌশলের চাল চেলে বাবাসাহেব বাংলার যে সব ক্ষেত্রের এম এল এ-দের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই সব ক্ষেত্র ভারতভাগের সময় পূর্বপাকিস্তানে দিয়ে দেয়। ফলে বাবাসাহেবের সদস্য পদ রদ হয়ে যায় ভারতের সংবিধা সভার জন্য।

     বাবাসাহেব জানতেন কংগ্রেস কিছুতেই তাঁকে সংবিধান সভায় যেতে দিতে চাইবে না। তাই তিনি ১৫ অক্টোবর ১৯৪৬ সালে ঈংলণ্ডে যান। ৩১ অক্টোবর ১৯৪৬ ওখানকার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। চার্চিলের সঙ্গে দেখা করেন। চার্চিল বাবাসাহেবকে বলেন, ‘অচ্ছুতদের সব রকমের প্রশ্নের উপর আমার পার্টি সহৃদয়তার সঙ্গে সহানুভুতি দেখাবে’। ব্রিটিশ সরকার এই বিষটিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে গ্রহণ করে। কারণ, দেশভাগের ব্যাপারে নির্ধারিত নীতিকে লঙ্ঘন করা হচ্ছিল। ফলে ব্রিটিশ সরকার নেহেরুকে বলেন, ডঃ আম্বেদকর যে স্থান থেকে জয়ী হয়ে সংবিধান সভায় এসেছেন, সেই স্থান হয় ভারতের মধ্যে হোক আর না হয় তাঁকে পুনরায় সংবিধান সভায় পাঠানোর ব্যবস্থা করুন অন্যথা এই বিষয়ের সমস্যা মেটাতে সময় লাগতে পারে। এর ফলে বিভাজনের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হবে। (তথ্য- ‘সংবিধান সভা কা সফর’। লেখক- ডঃ সঞ্জয় গজভিয়র। পৃষ্ঠা-৭৭/৭৮)

     এর পরও কেউ কেউ বলবেন, কংগ্রেসইতো বাবাসাহেবকে সংবিধান সভায় পাঠিয়ে ছিল। কিন্তু প্রথম্ বার যদি বাবাসাহেব সংবিধান সভায় যেতে না পারতেন, তাহলে ব্রিটিশ সরকার কোনো যুক্তিতেই এইভাবে চাপ দিতে পারত না। যেহেতু ডঃ আম্বেদকর প্রথমেই সংবিধান সভায় ছিলেন তাই নিরুপায় হয়ে পুনরায় তাঁকে কংগ্রেস নিতে বাধ্য হয়েছে। এখানে কংগ্রেসের কোনো কৃতিত্ব নেই।

    তাহলে আমরা কী দেখলাম, এই পূর্ণ ঘটনার দিসলাইয়ের কাঠি স্বরুপও যদি ধরি, সেই বারুদ জ্বালিয়েছিলেন, মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল। এখানে কোনো অংশেই তাঁর কৃতিত্ব কম নয়। তাই একথা বলা যায়, ‘যোগেন্দ্রনাথ মুসলিম লীগ তথা মুসলমানদের সঙ্গে গাঁট বাঁধার 'অপরাধে' হিন্দু আধিপত্যবাদীদের দ্বারা যতই ধিকৃত হন না কেন এবং তিনি যতই বিতর্কিত ব্যক্তি বলে নিন্দিত হন না কেন, অধ্যাপক অমলেন্দু দে যথার্থই মন্তব্য করেছেন যে, "The history of Modern India cannot be complete without Mr. J.N. Mandal.’ (তথ্য- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, লেখক- সদানন্দ বিশ্বাস, পৃষ্ঠা-২৩৪)।

 

 

 

 

 

 

Read More

Saturday, 24 January 2026

// // Leave a Comment

রাজনীতি সম্পর্কে - মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল

 


রাজনীতি সম্পর্কে - মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল

     আমরা অন্যের দয়ার উপর নির্ভর করে বাঁচিয়া থাকতে চাই না। আমি বুঝি কোন জাতির যদি রাজনৈতিক অধিকার না থাকে- তা হলে সে পৃথিবীতে মানুষের মতো বাঁচিয়া থাকতে পারে না। অর্থ মানুষকে পৃথিবীতে সম্মান দিতে পারে না বা বড়ও করতে পারে না। তাই চাই রাজনৈতিক অধিকার, চাই রাজশক্তি পরিচালনার অধিকার। যাঁরা এই রাজশক্তির অধিকার পেয়েছেন, তাঁরাই বড় হয়েছেন। রাজশক্তি পরিচালনার অধিকার না পেয়ে ইহুদিরা ধনী হইয়াও চিরদিন অন্যের গঞ্জনা সহ্য করিতেছে। এমন কি সমস্ত পৃথিবীতে তাহাদের বাস করিবার স্থানটুকুও নাই।

(তথ্য - মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ বাবাসাহেব আম্বেদকর, লেখক - জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল; পৃষ্ঠা ১০৫-১০৬ / জাগরণ, ১৮ জানুয়ারী, ১৯৪)

Read More

Wednesday, 14 January 2026

// // Leave a Comment

বাংলা ভাগের পক্ষে ও বিপক্ষে কারা ভোট দিয়ে ছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ। (যোগেন্দ্রনাথ এই ভোটাভোটিতে অংশ গ্রহণ করেন নি)

 












বাংলাভাগের ভোটাভোটিতে যোগেন্দ্রনাথাকে অংশ গ্রহণে বিরত রাখার কারণ-

যোগেন্দ্রনাথ তখন ভারতের অন্তর্বর্তী সরকারে আইনমন্ত্রী। সুতরাং ব্যবস্থা পরিষদের এই ভোটাভোটিতে তাঁর পক্ষে যোগদান করা আইনগত দিক থেকে বাধা ছিল। এতে প্রামণ হয় ভারত তথা বাঙলা ভাগের  ব্যাপারে যোগেন্দ্রনাথের কোনও মতামত গ্রহণ করা হয়নি (তথ্য-মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ। লেখক- জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা -১৪৯)

বাংলা ভাগের পক্ষে ও বিপক্ষে কারা ভোট দিয়ে ছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ_



 









Read More

Tuesday, 13 January 2026

// // Leave a Comment

প্রিয় সম্পাদক অস্পৃশ্যতার শিকার বিবেকানন্দ লেখক- অঞ্জন সাহা

                        প্রিয় সম্পাদক- অস্পৃশ্যতার শিকার বিবেকানন্দ

              


                                             লেখক- অঞ্জন সাহা

      ১৮৯৩ সালে বিবেকানন্দ এক পত্রে আলাসিঙ্গাকে এক লিখেছেন, ‘হিন্দু ধর্ম যেমন পৈশাচিকভাবে গরিব ও পতিতদের গলায় পা দেয় জগতের আর কোনও ধর্ম এক্সপ করে না।’ এই ‘পৈশাচিক পা’ বিবেকানন্দকেও রেহাই দেয়নি। শূদ্র বলে অনেক সন্ন্যাসী মঠে আশ্রমে তাঁকে অপরাপর সন্ন্যাসীদের সঙ্গে পঙক্তি ভোজনে বসতে দেওয়া হয়নি। বিখ্যাত জজসাহেব ও প্রখ্যাত সমাজসেবী স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্ববিজয়ী বিবেকানন্দর সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করতে অস্বীকার করেন। এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর শোকসভায় সভাপতিত্ব করতে অনুরোধ করা হলে শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘দেশে যদি হিন্দু রাজা থাকত তবে শূদ্র হয়েও সন্ন্যাসী হওয়ার অপরাধে তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানো হাত’ (বিবেকানন্দ ও সমকালীন ভারতবর্ষ, শঙ্করীপ্রসাদ বসু, খ-৪, পৃঃ- ৬২)। এমনকি এটাও জ্বলন্ত সত্য যে, শ্রী রামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর মথুর বিশ্ব সেরা বিবেকানন্দকে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে ঢুকতে দেননি তার শদ্রত্বের কারণে। ‘স্বামী বিবেকানন্দ মন্দিরে ঢুকেছিলেন বলে দেবীর পুনরাভিষেকের প্রয়োজন হয়েছিল।’ (ঐ, পৃঃ- ১৫৫)। এতদসত্বেও তিনি সেই পৈশাচিক ধর্মের মহিমা কীর্তন করে গেছেন এবং জাতবাদ-এরও তিনি ছিলেন প্রবল সমর্থক। জাতবাদ-এর আর এক শিকার ড. আম্বেদকর। তাঁর পরীক্ষার উত্তর-পত্রাদি গঙ্গাজল ছিটিয়ে প্রথমে পবিত্র করা হত, তারপরই শিক্ষকরা তা মার্কিং-এর জন্য দেখতেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবু জগজীবন রাম বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ড. সম্পূর্ণানন্দের মূর্তি উন্মোচন করেন। মুচির ছেলের স্পশে মূর্তি অপবিত্র হওয়ায়, পরে গঙ্গাজলে ধুয়ে তাকে পুনরায় পবিত্র করা হয়। কিন্তু মাঝগঙ্গার অতলে ডুবিয়েও ড. আম্বেদকরদের পবিত্র করা যায়নি। তাঁরা রয়ে গেছেন অস্পৃশ্যই। আবার শূদ্রাণী কৈবর্ত রাণি রাসমণি তাঁর দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দিরের সম্পত্তি ব্রহ্মোত্তর করে না দেওয়া পর্যন্ত গদাধরের পুজোর প্রসাদ গ্রহণ না করার জেদ মুগ্ধ করেছিল সনাতনপন্থী হিন্দু সম্প্রদায়কে। তাঁরা তুরীয় আনন্দে রামকষ্ণদেবকে অবতার বলে ঘোষণা করে দিলেন। প্রকৃতপক্ষে গোঁড়া ব্রাহ্মণ রামকৃষ্ণ নিম্নবর্ণকে চিরকাল নিচ চোখে দেখে এসেছেন। ‘শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পুঁথি-র লেখক অক্ষয় সেন (শাকচুন্নী) লিখেছেন,

 ‘প্রভুদেব রামকৃষ্ণ বসিলা ভোজনে।।

 একাত্তরে সবে কিন্তু স্বতন্ত্রর স্থান।

 বর্ণ ভেদ রক্ষাকরা প্রভুর বিধান।।’ (পৃঃ-৫২২)।

 কিংবা

 ‘পবিত্র ব্রাহ্মণ বিনা বন্দন না হয়।

 অন্যে পরশিলে অন্ন ঘৃণ্য অতিশয়।।’ (পৃঃ- ৪৮৮)।

 গান্ধীজি ‘বর্ণাশ্রম’ ধর্মের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু অচ্ছুৎ প্রথাকে ঘৃণা করতেন। কিছুকাল অস্পৃশ্যতা। দুরীকরণের প্রয়াস চালিয়ে ধর্মের ঠিকাদারদের আক্রমণের শিকার হন। গোঁড়া হিন্দু সমাজের বাঘা বাঘা সমালোচকরা তাঁকে অভিহিত করেন ‘শয়তান’ বলে। গান্ধীজির প্রয়াস সফল হয়নি। তিনি বোঝেননি, বর্ণভেদ-জাতিভেদ প্রথা সমূলে উচ্ছেদ না করে এবং যে ধর্মের ঈশ্বর সমস্ত শ্রমজীবী মানুষকে ‘পাপযোনি’ এবং ‘দাস’ করে সৃষ্টি করেছেন, সেই ধর্ম এবং তার ধর্মগ্রন্থের আধুনিক ভাষ্যের মাধ্যমে ব্রহ্মণ্য ধর্মের চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণের মানুষদের শৃঙ্খল মোচন সম্ভব নয়। প্রমাণ, চুনী কোটাল ও রোহিত ভেমুলা।

     আজও প্রতিদিন এই মহান ভারতের কোথাও না কোথাও অস্পৃশ্যদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের নারীদের ধর্ষণ করা হয়। ভৌতিক উল্লাসে তাঁদের পুড়িয়ে মারা হয়। তথ্য বলছে, ২০০০ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে উচ্চবর্ণের সন্ত্রাসবাদীরা নিম্নবর্ণের ২৬০০০ মানুষকে হত্যা করেছে। মূল থেকে পচে যাওয়া সমাজব্যবস্থায় রোহিতের মৃত্যু আরও একটি সংখ্যা মাত্র। নানা মিডিয়ায় কিছুদিন ফাটাফাটি যুক্তি-তর্ক চলবে, তারপর সব শান্তিকল্যাণ হয়ে যাবে। 

     মানুষ নয়, অস্পৃশ্য হোক অমানবিক ধর্মীয় বিধান।

অঞ্জন সাহা। কলকাতা-৫১

(কোন পত্রিকায় এটা ছাপা হয়েছে, সেটা জানিনা।)


Read More
// // Leave a Comment

শূন্যের আবিষ্কার কে করেছিলেন?-ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ সিংহ

 


শূন্যের আবিষ্কার কে করেছিলেন?

আমরা সাধারণত এটা জানি যে, আর্যভট্ট শূন্যের ‘০’ আবিষ্কার করেছিলেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ভাষাতত্ত্ববিদ ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ সিংহ জানিয়েছেন-

শূন্য আবিষ্কার যিনিই করুন না কেন, কনিষ্কের সময়ে 0’ শূন্য ছিল এবং ডানে 0’ শূন্য যোগ করে ২০ লেখাও ছিল। বারাণসী থেকে প্রাপ্ত কনিষ্কের সময়ের একটি বুদ্ধ মূর্তির ছাউনিতে 0’ শূন্যও আছে, ২০ও রয়েছে। (তথ্য- ভারতীয় লিপিয়ো কী কহানীঃ গুণাকর মূলে পৃ. ৬৩/বাংলা বই- ইতিহাসের পর্যালোচনা। পৃষ্ঠা ক্রমাঙ্ক – ৬৫)

 शून्य का आविष्कार चाहे जिसने भी किया हो, कनिष्क के समय में 0 भी था और दाहिनी ओर ० जोड़कर लिखा गया 20 भी था। वाराणसी से प्राप्त कनिष्क के समय की एक बुद्ध मूर्ति के छत्र पर 0 भी है, 20 भी है।(साभार-भारतीय लिपियों की कहानी : गुणाकर मुले पृष्ठ 63/ इतिहास का मुआयना Page No.78)


Read More

Saturday, 10 January 2026

// // Leave a Comment

দেবতা আছে কি? আত্মা আছে কি? এই বিষয় নিয়ে বুদ্ধ ও এক ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথোন।

 


দেবতা আছে কি? আত্মা আছে কি? এই বিষয় নিয়ে বুদ্ধ ও এক ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথোন। (মারাঠি ভাষ্যকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে)

तथागत बुद्धांना एकदा एका मनुष्याने विचारलं देव आहे कि नाही? आत्मा नाही पुनर्जन्म नाहीस्वर्ग नाहीनर्क नाहीतुम्ही असं कसंकाय म्हणता?

    তথাগত বুদ্ধকে একজন প্রশ্ন করলেন যে, আপনি বলেন যে, দেবতা নেই, আত্মা নেই, স্বর্গ নেই, নরক নেই। আপনি এসব কথা কি করে বলেন?

 এ সব বিষয়ে তথাগত বললেন, আমি শুধু বাস্তব সত্য কী সে বিষয় সম্পর্কে মানুষদের জানানোর কাজ করি।

 তখন সেই ব্যক্তি বললেন, আমি সঠিক বুঝলাম না। আমাকে আপনি এ বিষয়ে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে বলবেন কি?

তথাগত বললেন মানুষের বাহ্যিক পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয় আছে। যার মাধ্যমে মানুষ সত্যকে জানতে পারে। চোখ, কান, নাক জিভ ও তক। এগুলোর মাধ্যমে মানুষ জ্ঞান অর্জন করে। মানুষ চোখ দিয়ে দেখে, কান দিয়ে শব্দ শোনে, নাক দিয়ে শ্বাস নেয় ও গন্ধ অনুভব করে, তক দিয়ে স্পর্শ অনুভব করে আর জিহ্বা দিয়ে স্বাদ অনুভব করে। একে পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় বলে। এর মধ্য থেকে ২টো বা ৩টে জ্ঞানেন্দ্রিয়র মাধ্যেমে মানুষ সত্যকে জানতে পারে। কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করে। যেমন জলকে আমরা চোখে দেখতে পাই। কিন্তু সেই জল ঠাণ্ডা নাকি গরম সেটা বোঝার জন্য তকের প্রয়োজন। এটা মিষ্টি নাকি লবনাক্ত সেটা বোঝার জন্য জিহ্বার প্রয়োজন।

তখন সেই ব্যক্তি বললেন এসব তো ঠিক আছে। কিন্তু এই সবকিছুর সঙ্গে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের কী সম্পর্ক?

তথাগত বললেন, হাওয়া দেখা যায় না। কিন্ত তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা যায় না। কারন, হাওয়ার অস্তিত্ব আমরা অনুভব করতে পারি। আমরা যখন শ্বাস গ্রহণ করি, তখন বাতাস গ্রহণ করি। আমরা স্বাস গ্রহন করলে ও বাইরে ছেড়ে দিলে বাতাস অনুভব করি। তারপর তথাগত বললেন, এবার বলো, আমরা যেমন বাতাস অনুভব করি, একইভাবে, ঈশ্বরকে আমরা এই ৫টি ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করতে পারি কি? 

লোকটি ভাবনায় পড়লেন।

তথাগত বললেন, তুমি কি সত্যিই ঈশ্বরকে দেখেছো?

লোকটি বলল, না।

তোমার বাবা, ঠাকুরদা, বা তাদের বাবা, ঠাকুরদা ঈশ্বরকে দেখেছে কি?

তখন লোকটি বলল, না।

তখন তথাগত বললেন, যখন তুমি দেখোনি, তোমার পূর্বপুরুষেরা কখনো দেবতাকে দেখেনি, তুমি তোমার ৫টি ইন্দ্রিয় দিয়ে কখনো অনুভব করোনি, তাহলে তুমি কিভাবে বলতে পারো যে ঈশ্বর আছে?  

এই বিচারধারা তথাগত বুদ্ধের ছিল, তাই না?

তখন সেই ব্যক্তিকে এই যুক্তির সঙ্গে কিছুটা একমত বলে মনে হচ্ছিল। তবে সেই ব্যক্তি এতেই সন্তুষ্ট হতে পারেন নি। তিনি বুদ্ধকে আবার প্রশ্ন করলেন- তথাগত বাকি সব ঠিক আছে, কিন্তু আমরা জীবিত, এটা সত্য যে আত্মা আছে, তাই না? 

তখন তথাগত সেই ব্যাক্তিকে বললেন, তুমি বলছো যে আত্মা আছে এবং তার কখনও মৃত্যু হয় না, তাই না?

সেই ব্যাক্তি বললেন, হ্যা, ঠিক বলেছেন।

তখন তথাগত বললেন, আমাকে বলো, কোনো একজন মানুষ মারা গেলে তার ঠিক কী অর্থ বোঝায়?  

লোকটি বলল যে, আত্মা মানুষকে ছেড়ে চলে যাওয়ার অর্থ মানুষের মৃত্যু।

বুদ্ধ বললেন, তাহলে আমাকে বলো, আত্মা শরীর ত্যাগ করে, নাকি শরীর আত্মা ত্যাগ করে?

তখন সেই ব্যক্তি বলল, কখনো আত্মা শরীকে ত্যাগ করে। কেউ না কেউ তো অন্যকে ছেড়ে যায়।

বুদ্ধ বললেন, কেন ছেড়ে যায়? বেঁচে থাকার অনিচ্ছার জন্য কি?

তখন সেই ব্যক্তি বলল, না। মানুষের জীবন শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য।

এ প্রসঙ্গে তথাগত বললেন, যদি তাই হতো তাহলে সকল মানুষ ১০০ বছর বেঁচে থাকতে পারতো না। কেউ কেউ এভাবে মরতে পারত। অসুস্থ্যতার কারণে হোক বা যেকোনো কারণেই হোক।

তখন সেই ব্যক্তি বলল, তথাগত আপনি ঠিক বলেছেন। কিন্তু মানুষের মধ্যে যে আত্মা আছে তাকে আপনি কী বলবেন?

তথাগত বললেন, যখন তুমি প্রদীপ জ্বালাও তখন সেই প্রদীপে তেল থাকে, তেলে একটা সলতে থাকে; তুমি সেই প্রদীপ জ্বালানোর জন্য আগুন দেও। তারপর তুমি প্রদীপ জ্বালাও। তাইনা? এবার বলো, এই প্রদীপটা কখন নিভে যায়?

তখন সেই ব্যক্তি বলল, তেল শেষ হয়ে গেলে প্রদীপ নিভে যায়। আবার কখনো তেল থাকলেও প্রদীপটি নিভিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

তথাগত বললেন, এ ছাড়াও প্রদীপ কখন কখন নিভে যেতে পারে?  

সেই ব্যক্তি কোনো উত্তর দিতে পারলো না।

তখন তথাগত বললেন, একটা জোরে হাওয়া এসেও প্রদীপটা নিভিয়ে দিতে পারে। এবার তোমার শরীরকে সেই প্রদীপের মতো মনে করো। আর জীবনকে সেই আগুন মনে করো। বুদ্ধ আরো বললেন, জীবের দেহ চারটি (তত্ব) নিতির সমন্বয়ে গঠিত। পৃথিবী, জল, বায়ু, ও আলো (তেজ বা সুর্য)। পৃথিবী একটা কঠিন পদার্থ। অর্থাৎ মাটি। জল একটি তরল পদার্থ। তেজ হচ্ছে শক্তি, উষ্ণতা। বায়ু হচ্ছে বাতাস। এই চারটি পদার্থ থেকে যখন একটি আলাদা হয়ে যায়, তখন মানুষের মৃত্যু হয়।

শক্তি তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ মারা যায়। আগে বুদ্ধ বললেন, আত্মা আছে কী নেই, আমি এসব নিয়ে ভাবি না। ‘ধম্ম’ এই নির্থক বিষয়গুলো নিয়ে সময় নষ্ট করে না। একজন মানুষের জন্মগ্রহণ থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত সে কিভাবে কাজ করে, তার কর্তব্য পালন করে, ‘ধম্ম’ এই বিষয়ের উপর বিচার করে। কোন কাজ করার পর কী পরিণাম হবে সে বিষয়ে ‘ধম্ম’ বিচার করে। একজন মানুষ জীবিত অবস্থায় কিভাবে স্বর্গ উপলব্ধি করতে পারে সে বিষয়ে ‘ধম্ম’ আমাদের শিক্ষা দেয়। আর জীবিত অবস্থায় একজন মানুষকে অজ্ঞতার জন্য নরক যন্ত্রনা যাতে পেতে না হয়, সে বিষয়েও ‘ধম্ম’ শিক্ষা দেয়। ‘ধম্ম’ অর্থ অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই সকল কথা ঈশ্বর এবং আত্মা সম্পর্কে বুদ্ধ সেই ব্যক্তিকে বললেন।

     এই আলোচনা সম্পর্কে পাঠক আপনার মতামত জানান।

 

         


Read More

Thursday, 8 January 2026

// // Leave a Comment

বাংলা ভাগ ও যোগেন্দ্রনাথ লেখক – জগদীশচন্দ্র রায়





বাংলা ভাগ ও          যোগেন্দ্রনাথ
      লেখক – জগদীশচন্দ্র রায় 

    একটা প্রবাদ আছে যতো দোষ, নন্দ ঘোষ। নন্দ ঘোষের প্রতি দোষের ইতিহাস না জানলেও যাঁর সম্পর্কে এই আলোচনা করছি, এই বিষয় সম্পর্কে তাঁর দোষ কতটা বা অন্যের দোষ কি তাঁর উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? তবে কেন? তাহলে আসল দোষী কে বা কারা? আর কেনই বা তাঁরা যোগেন্দ্রনাথের উপর সমস্ত দোষ চাপিয়ে দিতে চাইছে? কি ই বা তাদের উদ্দেশ্য ? এ সব বিষয়ের উপর আলোকপাত করার চেষ্টা করছি।
    শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর একটা কথা আছে, ‘দেশভাগ হোক না হোক বাংলাকে অবশ্যই ভাগ করতে হবে।” কেন? একবার পাঠকগণ ভেবে দেখুন বা তথ্য খুঁজে দেখুনতো ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ এর পূর্বে সমগ্র(পূর্ব ও পশ্চিম) বাংলায় কোন ব্রাহ্মণ বা উচ্চবর্ণীয়দের শাসন ছিল কি? আর এই সময়ের পরে পশ্চিম বাংলায় কোন নিম্ন বর্ণীয়দের  শাসন এসেছে কি? আশাকরি, বিদগ্ধ পাঠক বুঝতে পেরেছেন শ্যামাপ্রসাদ কেন ঐ কথা বলেছিলেন।
শুধু এই কারণটাই নয়, বাংলা ভাগের অন্যান্য মুখ্য কারণগুলি হলো-
 প্রথম কারণঃ- বাংলা প্রান্তে মুসলিম এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেনীর(বিশেষ করে নমঃশুদ্র) লোকদের সংখ্যা সর্বাধিক ছিল । সেখানে মুসলিম লীগের সরকার ছিল। যদি বাংলার বিভাজন না হয়  তাহলে মুসলিম আর পিছিয়ে পড়া শ্রেনীর সত্তা চিরস্থায়ী হবে। সেখানে উচ্চবর্ণীয়দের কোন অধিকার থাকবে না । 
দ্বিতীয় কারণঃ- বাংলার খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, বরিশাল এই এলাকা থেকে বাবা সাহেবকে নির্বাচিত করে সংবিধান সভায় পাঠানো হয় । তাই বাংলা বিভাজন করে বাবাসাহেব যে ক্ষেত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন সেখান থেকে বাবাসাহেবের সদস্য পদ খারিজ করার উদ্দেশ্যে বাংলা ভাগ করে ছিল 
তৃতীয় কারণঃ-  যে নমঃ(শুদ্র)রা বাবাসাহেবকে সংবিধান সভায় নির্বাচিত করে পাঠিয়েছেলেন তাদেরকে সাজা দেওয়ার জন্য যাতে তারা আজীবন মুসলমানদের আধীন থাকে, এই শিক্ষা দেওয়ার জন্য বাংলা ভাগ করেছিল 
আর একটা কারণ, সেটা আপনারা মানুন আর নাইবা মানুন; সেটা হচ্ছে-
 যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল হচ্ছেন বাংলার আম্বেদকর। তাঁর ক্ষমতা কত সুদূর প্রসারী ও শক্তিশালী, সেটা তাঁর থেকে উপকার প্রাপ্তরা কতটা বুঝেছেন বলা মুশকিল। তবে উচ্চবর্ণীয়রা সেটা হাড়ে হাড়ে  বুঝতে পেরে ছিলেন বাখার গঞ্জ কেন্দ্রের জয় থেকে শুরু করে বাবা সাহেবকে সংবিধান সভায় পাঠানো পর্যন্ত। যার জন্য তারা হর পল মহাপ্রাণের লাগামকে নিজেদের কন্ট্রোলের বাইরে যেতে দেয়নি। বরং সব সময় যোগেন্দ্রনাথে বিরুদ্ধে নিজের জাতির লোক দিয়ে যেমন বিরোধীতা  করিয়েছে। তেমনি তারা বুঝতে পেরেছিল, বাংলা ভাগ না হলে কোন দিনই উচ্চবর্নীয়দের কব্জায় বাংলার শাসন ক্ষমতা আসবে না। তাই গোদের উপর বিষ ফোড়াটাকে স্বমূলে নির্মুল করার  জন্য বাংলা ভাগ করা তাদের কাছে অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। এখানে আর একটা কথা বলে রাখি ঐ সময়ে নেতাজীর অন্তরধান হওয়া উচ্চবর্ণীয়দের বাংলা ভাগ করার কাজটি সুগম হয়।
আপনারা হয়তঃ জানেন। যে গান্ধীর কথা স্কুলে পড়ানো হয়, যে “দেশভাগ হতে হলে আমার মৃত  শরীরে উপর দিয়ে যেতে হবে।”  সেই গান্ধীর উপস্থিতিতে ১৯৪২ সালে ১৫ই জুন কংগ্রেসের অধিবেশনে দেশভাগের প্রস্তাব পাশ হয়। (তথ্যঃ- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ ৩য় খণ্ড লেখক- জগদীশ চন্দ্র মন্ডল)  
    এতোকিছু প্লান মাফিক হওয়ার পরেও বাংলা ভাগের জন্য দোষ চাপিয়ে দেওয়া হ’ল  যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের উপর। কেন? কারণ, আপনারা জানেন, দুর্বা ঘাস প্রচন্ড রোদের শুকিয়ে গেলেও আবার বর্ষার জল পেলে জেগে ওঠে। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই জাতের লোক ছিলেন। যার প্রমান ‘মায়ের ডাক’ পত্রিকায় একবার প্রকাশিত হয়, “যোগেন মন্ডলরা আবার যাগছে।”  অর্থাৎ  কোন প্রকারেই নিশ্চিহ্ন করতে পারছিল না উচ্চবর্ণীয়রা। যার জন্য তারা যোগেন্দ্রনাথের উপর তাদের মিথ্যা অপবাদের শক্তিসেল প্রয়োগ করে। পরিস্থিতি এমন আকার ধারণ করে যে, তাঁর সঙ্গে কেউ দিবালোকেও দেখা করতে যেতে সাহস পেতেন না লজ্জায়বর্তমানে সেই পরিস্থিতি থেকে অনেক উত্তরোণ ঘটলেও কিন্তু শত্রু পক্ষ তাঁরই সমাজের লোকের মধ্যে তাঁর নামে বিভিন্ন ভাবে মিথ্যা প্রচার করেই চলেছে। আর তাঁরই শ্রমের বিনিময়ে সংরক্ষিত সংরক্ষণের(১৯৬৫ এর লকুড় কমিটির সুপারিশ বন্ধ করে নমঃশূদ্র, দাস, সুড়ি/সাহা ও রাজবংশীদের তপশিলী জাতির অন্তর্ভুক্ত করে রাখেন।) সুবিধা নিয়ে সরকারী চাকরী করে তাঁর প্রতি বিষ উগরে দিচ্ছে। একটা  জাতির পক্ষে এর থেকে লজ্জা ও ঘৃণার আর কি হ’তে পারে!!! এই গোলামদের কোন গ্রেড দেবেন আপনারা?   
বাঙ্গলা বিভাজন যাতে না হয় তার জন্য ১৯৪৭ সালে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল বাংলার বিভিন্ন জায়গায় বাংলা বিভাজনের বিরুদ্ধে লোকদের জাগৃত করার কাজ করেন । খড়িবাড়ি(দার্জিলিং) , জলপাইগুড়ী, দিনাজপুর, হরিনারায়নপুর, খোলাপোতা গ্রাম(২৪ পরগনা ) কলকাতা, বর্ধমান, বীরভুম, হুগলী ইত্যাদি জায়গায় বাংলা বিভাজনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন । যেকোন পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাকে বিভাজিত হতে বন্ধকরার চেষ্টা করেছিলেন । বাংলা বিভাজনের পক্ষে
কংগ্রেস আর উচ্চবর্নীয়রা কেন ছিল সেটা জানা খুব দরকার এবিষয়ে সরাসরি তুলে দিলাম নিচের অংশ। অনুসন্ধানী পাঠকরা আশাকরি, বুঝতে পারবেন যে, কাদের স্বার্থে ও চক্রান্তে বাংলা ভাগ হয়েছিল। আর যে কাজে যোগেন্দ্রনাথের কোন অংশগ্রহণই ছিল না তিনি কি করে সেই কাজের জন্য দোষী হন??? দেখুন নিচের অংশ। আর জানান আপনার মতামত।

বঙ্গীয় ব্যবস্থাপরিষদে বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব গৃহীতঃ-

   বৃটিশ গভর্ণমেন্টের ৩ জুনের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ জুন, বঙ্গীয় ব্যবস্থা পরিষদের হিন্দু  সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল সমূহের প্রতিনিধিগণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুইটি পৃথক সভায় মিলিত হলেন। হিন্দু প্রধান জিলাগুলির হিন্দু ও মুসলমান সদস্যগণ একটি সভায় মিলিত হলেন এবং মুলসমান প্রধান জিজাগুলীর হিন্দু ও মুসলমান সদস্যগণ আর একটি পৃথক  সভায় মিলিত হলেন। বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া,  কলকাতা, ২৪  পরগণা, খুলনা, জলপাইগুড়ি এবং দার্লিলিং এই এগারটি হিন্দুপ্রধান জিলার হিন্দু ও মুসলমান  সদস্যগণ যে সভায় মিলিত হলেন তাতে সভাপতিত্ব করলেন বর্ধমানের মহারাজা স্যার উদয়চাঁদ   মহতাব এবং মুসলমান প্রধান জিলাগুলির হিন্দু ও মুসলমান সদস্যগণ মিঃ নূরুল আমিনের  সভাপতিত্বে একটি পৃথক সভায় মিলিত হলেনপ্রথমদিকে কংগ্রেস পক্ষের দাবিতে উভয় অধিবেশনে সমগ্র বাঙলা বর্তমান গণপরিষদে যোগদান করবে বলে একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ১২৬ ভোট এবং পক্ষে ৯০ ভোট হওয়ায় প্রস্তাবটি আগ্রাহ্য হয়।
    পরে হিন্দুপ্রধান অঞ্চলের প্রতিনিধিগণের সভায় বঙ্গবিভাগের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। উক্ত প্রস্তাবটি ৫৮-২১ ভোটে গৃহীত হয়। এই অংশের শাসনতন্ত্র প্রণনের উদ্দেশ্য বর্তমান গণপরিষদে  যোগদানের প্রস্তাব ৫৮-২১ ভোটে গৃহীত হয়। অপরপক্ষে মুসলমান প্রধান অঞ্চলের সসস্যগণের সভায় বঙ্গবিভাগের বিরুদ্ধে ১০৬ জন ও পক্ষে ৩৪ জন কংগেসী সদস্য ভোট প্রদান করেন। এই অংশের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করবার জন্য বর্তমান গণপরিষদে যোগদান করবে না, মুসলমান প্রধান অঞ্চলগুলির জন্য যে নতুন গণপরিষদ গঠি হবে, সেই গণপরিষদে যোগদান করবে তার একটি  প্রস্তাব উত্থাপিত  হয়। মুসলমান প্রধান অঞ্চলগুলির জন্য যে নতুন গণপরিষদ গঠিত হবে, সেই গণপরিষদের যোগদানের প্রস্তাবের পক্ষে ১০৭ জন ও বিপক্ষে  ৩৪ জন ভোট প্রদান করায়  প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। মুসলমান প্রধান সদস্যদের সভায় আর একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তাহলে উক্ত জেলাকে পূর্ববঙ্গ নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে নিতে স্বীকৃত আছে। ১০৫-৩৪ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এই অংশের কংগ্রেসী ৩৪ জন সদস্য প্রত্যকটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

বাঙলা ভাগের যে ভোটাভুটি হয় তাতে যারা অংশ গ্রহণ করেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-

   এই ভোটাভোটিতে মোট ২২৫ জন সদস্য অংশ গ্রহণ করেন। তন্মধ্যে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট অঞ্চলের ৮০ জন এবং মুসলমান গরিষ্ঠ অঞ্চলের ১৪৫ জন। ইউরোপীয়ান ২৫ ভোট দানে বিরত থাকেন। হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ এলাকার ৮০ জনের মধ্যে, হিন্দু ৫৮ জন, মুসলমান ২১ জন,  এয়াংলো ইন্ডিয়ান ৪ জন এবং ভারতীয় খৃষ্টান ১ জন।
     উক্ত ৫৪ জন হিন্দুর মধ্যে অ-কংগ্রেসী ভোটার ৫ জন। তারা হলেন – ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী (হিন্দুমহাসভা) মহারাজাধিরাজ স্যার উদয়চাঁদ মহতাব (স্বতন্ত্র), মুকুন্দবিহারী মল্লিক (স্বতন্ত্র), রতনলাল ব্রাহ্মণ (কমিউনিষ্ট) এবং জ্যোতি বসু (কমিউনিষ্ট)।
    ২১ জন মুসলমানের বিশিষ্টদের মধ্যে মিঃ এস. এইচ. সোহারাবর্দী (মূখ্যমন্ত্রী), মিঃ এম. এ. এই. ইস্‌পাহানী (মুসলিম লীগের কার্যকরী সমিটির সদস্য),  মিঃ আবুল হুসের (সম্পাদক, বঙ্গীয় মুসলিম লীগ), মিঃ আবদুর রহমান (সমবায় ও ত্রাণ দপ্তরের মন্ত্রী) এবং নবাব মুসারফ হোসেন।
    মুসলমান সংখ্যা গরিষ্টদের এলাকায় হিন্দু কিরণশঙ্কর রায়, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (যথাক্রমে কংগ্রেস এসেমব্লি পার্টির নেতা ও উপনেতা), নেলী সেনগুপ্ত এবং পি. আর. ঠাকুর (প্রমথরঞ্জন ঠাকুর)।
    মুসলমান গরিষ্ঠ অঞ্চলের ১৪৫ জনের মধ্যে, মুসলমান ১০৩ জন, হিন্দু ৪১ জন, ভারতীয় খৃষ্ঠান ১ জন।
    ৪১ জন হিন্দুর মধ্যে ৬ জন অ-কংগ্রেসী তফশিলী সদস্য, তন্মধ্যে মন্ত্রীদ্বয় দ্বারিকনাথ বারুরী ও নগেন্দ্র নারায়ণ রায়, মহারাজা গিরিশচন্দ্র নন্দী, সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী, ভোলানাথ বিশ্বাস, হারাণচন্দ্র বর্মণ (উপয় পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী), গয়ানাথ বিশ্বাস (ময়মন সিং) এবং একজন কমিউনিষ্ট সদস্য ছিলেন।
    মুসলমানদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লিখিত মিঃ এ.কে. ফজলুল হক, মিঃ মহাম্মদ আলি (রাজস্ব মন্ত্রী), মিঃ নুরুল আমিন (স্পিকার), মিঃ আহম্মদ হোসেন (কৃষি মন্ত্রী), মিঃ সামসুদ্দীন আহম্মদ (শ্রম ও বাণিজ্যমন্ত্রী) অন্যতম।
    পশিমবঙ্গ ব্লকের দুইটি হিন্দু আসন, যথাক্রমে কলিকাতা পূর্ব (সাধারণ) এবং জলপাইগুড়ি- শিলিগুড়ি সাধারণ (তফশিলী আসন দুটিকে ভোট থেকে বিরত রাখা হয়। তাছাড়া, বাখরগঞ্জ দক্ষিণ- পশ্চিম সাধারণ ( তফশিলী) আসনটিকেও ভোট থেকে বিরত রাখা হয়।
বাখরগঞ্জ দক্ষিন- পশ্চিম সাধারণ তফশিলী আসনটির নির্বাচিত সদস্য আমাদের যোগেন্দ্রনাথ। যোগেন্দ্রনাথকে এই ভোটাভোটিকে অংশ গ্রহণে বিরত রাখার কারণ যোগেন্দ্রনাথ তখন অন্তর্বর্তী সরকারে আইনমন্ত্রী। সুতরাং ব্যবস্থা পরিষদের এই ভোটাভোটিতে তাঁর পক্ষে যোগদান করা আইনগত দিক থেকে বাধা ছিল। তে প্রামণ হয় ভারত তথা বাঙলা ভাগের ব্যাপারে যোগেন্দ্রনাথের কোনও মতামত গ্রহণ করা হয়নি।
    কথায় বলে চোরের মার বড় গলা। যাদের ভোটে বাঙলা ভাগ হল, যার ফলে উভয় বাঙলার বিপুল সংখ্যক লোক তাদের পৈতৃক বাসস্থান হতে উৎখাত হলেন, স্বাধীন দেশে যারা পরিচিত হলে উদ্বাস্তু বলে, আজ তাদের ভাগ্য নিয়ে সারা রাজনৈতিক ফয়দা তুলছেন, সেই সকল স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতা ও সমর্থকদের সঙ্গে সমসুরে সুর মিলিয়ে যোগেন্দ্রনাথের স্ব-জাতীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী উচ্চস্বরে চিৎকার করেন- বাঙলা ভাগের জন্য প্রধানত যোগেন্দ্রনাথই দায়ী। সরল প্রাণ বাঙালি এদের ক্ষমা করলেও ইতিহাস এদের ক্ষমা করবে না।
(তথ্য সংগ্রহ- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ ৩য় খন্ড পৃঃ ১৪৭-১৫০ লেখক – জগদীশ চন্দ্র মন্ডল )
----------------







Read More